আলীকদমে শীতের প্রকোপ বেড়েছে
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড়ি পল্লীতে এখন বেড়েছে শীতের প্রকোপ। তীব্র শীতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। কাঠখড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌষের শেষে জেঁকে বসছে শীত। ঘন কুয়াশায় সকালে কাজে যেতে পারেন না শ্রমজীবী মানুষ। শীতের কাঁপুনিতে অসহায় শীতার্তরা। হাটবাজারের ফুটপাতের দোকানগুলোয় শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতার্তদের ভীড়।
অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর শীতের প্রকোপ বেড়েছে। প্রচন্ড শীতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ ফুটপাতে দোকানগুলোয় শীতবস্ত্রের জন্য ভীড় করছেন। প্রচন্ড শীতে বাড়ির পুরনো কাপড়ের কদরও বেড়ছে বেশ। সবচেয়ে দুর্ভোগে আছে দারিদ্র্য শ্রেণির মানুষ। সারাদিন লেগে থাকে হিমেল হাওয়া। কাজে যেতে পারেন না শ্রমজীবীরা। এরপরও অনেকে অভাবের তাড়নায় গায়ের কাপড় জড়িয়ে শীত উপেক্ষা করে সকালে কাজে বেড়িয়ে পড়েন।
ভারত মোহন পাড়ার দিন মজুর নিবারণ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, গরীবের জন্য শীত গ্রীষ্ম বলে কথা নেই। কাজে তো না যেয়ে উপায় নেই। হাসপাতালে আসা শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার রনি কর্মকার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের ভারত মোহন পাড়া, মহলু পাড়া, উত্তর পালং পাড়ার এলাকার মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত গায়ে কাপড় জড়িয়েও শীত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। অনেকে বাড়ির উঠানে কাঠখড়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও এ বছর প্রচন্ড শীত পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওইসব এলাকার মানুষ বেশিরভাগ দারিদ্র্য সীমার নিচে। জুমচাষ করে কোনো মতে জীবিকা চালান তারা। প্রতিশীত মৌসুম পার করতে হয় অন্তহীন দূর্ভোগে। ফুটপাত থেকে কম দামে কাপড় কিনে হলেও শীত থেকে মুক্তির পথ খুঁঁজছেন তারা। প্রতিবছর শীতের শেষ সময়ে এসে সরকারিভাবে শীতার্তদের জন্য শীতবস্ত্র আসে। এ বছর এখনো সরকারিভাবে শীতার্তদের কোনো সাহায্য আসেনি।
আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আলীকদম উপজেলার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসনে শীতার্তদের বিতরণে ৪০০টি কম্বল এসেছে বলে শুনেছি। হরতাল-অবরোধের কারণে আনা সম্ভব হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে অচিরে বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।


















