খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নার্সের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

khagrachari hospital

পার্বত্যনিউজ প্রতিবেদক :

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে শুক্রবার শ্বাস কষ্ট জনিত রোগে ভর্তি হওয়ার প্রায় ২ টায় পর নার্সের অবহেলায় মো: মুছা নামক ৭২ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বাড়ী খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার মধ্যপাড়া বোয়ালখালী বেতছড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে। সে ঐ এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের পুত্র।

নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শ্বাস কষ্ট জড়িত কারণে তাকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। পরে মেডিকেল অফিসার ডা. মাওশ্রীলা দেওয়ান অসুস্থ মুছাকে দেখে মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স নন্দীতা চাকমাকে অক্সিজেন দেওয়াসহ যে নির্দেশনা প্রদান করে চিকিৎসায় অবহেলার কারনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স নন্দীতা চাকমা এ ঘটনার দায় অস্বীকার করে বলেন, রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি দায়িত্বে অবহেলার কথা অস্বীকার করে বলেন নার্সরা অবহেলা করলে হাসপাতালে এ রোগী চিকিৎসা সেবা পেত না। এদিকে মেডিসিন ওয়ার্ডের ৯নং ব্যাডে মৃত্যু হওয়া রোগীর পাশে থাকা রোগিরা নার্সের অবহেলার বিষয়টি সঠিক বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে হাসপাতালে কর্মরত ডা.মাওশ্রীলা দেওয়ান জানান, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ভর্তির সময়ই রোগীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এ জন্য হাসপাতাল থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি নার্সের অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার না করলেও ডাক্তার সল্পতার কারনে সব সময় রোগীদের পাশে থাকা সম্ভব হয় না বলে জানান।

খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সঞ্জীব ত্রিপুরা এ ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন মৃত রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তব্যরত নার্সের অবহেলার কারনটি খতিয়ে দেখা হবে। এতে কোন ধরনের অবহেলার প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নিহতের স্ত্রী জরিনা বেগম ও নাতী জামাতা গোলাম মোর্শেদ এ মৃত্যুর জন্য নার্স নন্দীতা চাকমাকে দায়ী করে তার শাস্তি দাবী করেন। এ সময়মত অক্সিজেন না দেওয়ার কারনে তার মৃত্য হয়েছে বলে দাবী করেন। দুপুরে নিহতের লাশ স্বজনরা তার দীঘিনালার বাড়ীতে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতাল এলাকায় কিছুটা উতপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে একই দিনে শুক্রবার রাতে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলায় হেনা আক্তার (৩) নামে এক শিশু মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হেনা জেলার দিঘীনালার মধ্য বোয়ালখালী এলাকার হান্নান’র একমাত্র কন্যা। তবে ডাক্তার ও নার্সের অবহেলার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

শিশু হেনার পিতার অভিযোগ, জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ায় শুক্রবার দুপুরে হেনাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শিশুটির বাঁ হাতের শিরায় স্যালাইন দেন নার্স। কিন্তু স্যালাইনটি সতর্কতার সাথে না লাগানোয় গভীর রাতে স্যালাইনের ক্যানোলা খুলে গিয়ে শিশুটির শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে। এবং এক পর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশু হেনা‘র পিতা বাদী হয়ে আদালতে বিচারপ্রার্থী হবেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে চিকিৎসক ও নার্সের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকেশ ত্রিপুরা বলেন, শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন