কক্সবাজারে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ জন রোহিঙ্গা আটক


কক্সবাজারে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে চেকপোস্ট বসিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এ সব তথ্য নিশ্চিত করে উখিয়ার ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক মো. আমির জাফর জানান, ‘রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেক দেশের নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সোমবার উখিয়া ডিগ্রি কলেজে এলাকায় চেকপোস্টে বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি চালিয়ে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তাদের কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মূলত কাজের সন্ধানে তারা নানা উপায়ে ক্যাম্প ছাড়ার চেষ্টা করেছে। তারা চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। ওখানে একটি চক্র তাদের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাওয়ার সময় যানবাহন তল্লাশি চালিয়ে চলতি মাসে ৫১১ জন রোহিঙ্গা ধরে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা মূলত প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্প ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এপিবিএন সজাগ রয়েছে।’
এদিকে মিয়ানমারে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার সুযোগ নিয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অনেকে। তারা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানাপ্রান্তে। চলতি মাসে ৫১১ জন রোহিঙ্গাকে আটকের পর ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মিয়ানমারে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে আরকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে এই লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে আরাকান আর্মি। সশস্ত্র এ বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, রাজ্যের অন্য কয়েকটি এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল লড়াই চলছে। বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেষা অঞ্চলে এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। দেশটি থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গারা।

















