ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিসাইল হামলায় উলফার মিয়ানমার ঘাঁটির ২ শীর্ষ কমান্ডার নি/হ/ত


ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিসাইল হামলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার ২ শীর্ষ কমান্ডার নি/হ/ত হয়েছেন বলে দাবি করছে সংগঠনটি।
১৩ জুলাই রোববার ভারতীয় সামরিক বাহিনী উলফার মিয়ানমার ঘাটিতে এই হামলা চালায় বলে দাবি করেছে উলফা। হামলায় নি/হ/ত দুই সেনা কমান্ডার হলেন ব্রিগেডিয়ার গণেশ আসম এবং কর্নেল প্রদীপ। ভারতীয় জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু’তে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে কোলকাতার শীর্ষ বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, আলফা (আই) দাবি করেছে, রবিবার সকালে তাদের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। অন্তত ১০০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। তাতে তাদের এক শীর্ষনেতা নি/হ/তও হয়েছেন। জ/খ/মও হয়েছেন ১৯ জন। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, নি/হ/ত নেতার নাম লেফটেন্যান্ট জেনারেল নয়ন আসম। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি আলফা (আই)।
পত্রিকার খবরে আরো বলা হয়, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এ রকম কোনও তথ্য নেই। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতো একই কথা জানিয়েছে ভারতীয় সেনা। পিটিআই-কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত বলেন, ‘‘এ রকম কোনও অপারেশনের তথ্য ভারতীয় সেনার কাছে নেই।’’

দ্য হিন্দু’র খবরে বলা হয়, উলফা আরও দাবি করেছে যে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মিসাইল হামলায় তাদের সংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য এবং কিছু বেসামরিক ব্যক্তি আ/হ/ত হয়েছেন। ভারতের সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তাদের এলাকায় তাদের উপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। তবে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর এই নৃশংস আক্রমণের প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে উলফা। পরেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন এই উলফা নয়াদিল্লিকে একটি দখলদার শক্তি এবং ভারতীয় স/শ/স্ত্র বাহিনীকে দখলদার বাহিনী হিসাবে উল্লেখ করছে।
১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পাহারা দেওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক আসাম রাইফেলস জানিয়েছে যে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত প্রতিবেশী দেশটিতে কোনও বোমা হামলার কথা তারা অবগত নন।
গুয়াহাটি-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত ভারতের গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই অভিযান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে তিনি উলফা (আই) কর্তৃক জারি করা বিবৃতিটি নোট করেছেন।
“আসাম পুলিশ জড়িত নয়, এবং আসামের মাটি থেকে কোনও আক্রমণ চালানো হয়নি। প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ সাধারণত এই ধরনের ঘটনার পরে বিবৃতি দেয়। তারা এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি,” তিনি বলেন।
ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম বা উলফা। এই চরমপন্থী গোষ্ঠী আসামের সার্বভৌমত্ব চাইছে। প্রসঙ্গত, আলফার মূল অংশ শান্তিচুক্তি করলেও পরেশ বরুয়ার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী আলফা (আই)-এর বিরুদ্ধে এখনও বিচ্ছিন্ন ভাবে ভারতে নাশকতা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। চীনের মদতে মায়ানমারের গোপন ডেরা থেকে তারা ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালায় বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর।

















