রোহিঙ্গাদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এআরএনসি

fec-image

মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার, স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন (প্ল্যাটফর্ম) গঠন করেছে। ‘আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিল’ (এআরএনসি) নামে এই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার (১৩ জুলাই) ঘোষণা দিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মিয়ানমার ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর তৈরি করা।

এআরএনসি (এআরএনসি) জানায়, তারা রোহিঙ্গা জনগণের “অধিকার, স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব” আদায়ের জন্য কাজ করবে। কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ৪০ জন এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৬০ জন সদস্য রয়েছেন, যাঁরা রাখাইন রাজ্যের প্রায় সবকটি শহর থেকে এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোর নেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। দশকের পর দশক ধরে চলা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বৈষম্য ও ২০১৭ সালের সেনা অভিযানে সংঘটিত গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সংগঠনের জন্ম বলে জানায় তারা।

এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করা। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন, যারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসেছেন। এতদিনেও বড় আকারের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। এআরএনসি জানায়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট উদ্যোগ না থাকায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।

কাউন্সিল আরও অভিযোগ করেছে, বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ নতুন করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছে। গণহত্যা, ব্যাপক সহিংসতা ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের মাধ্যমে তারা রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। কাউন্সিলের দাবি, আরাকান আর্মির হাতে ইতোমধ্যেই ২,৫০০’র বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে এবং আরও ১.৫ লাখ রোহিঙ্গা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সমুদ্র ও স্থলপথে বিপজ্জনক যাত্রায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

এআরএনসি একে “পরিকল্পিত ও কাঠামোগত গণহত্যা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করে, এই পরিস্থিতিতে নিরবতা আরও বিপজ্জনক পরিণতির দিকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দিচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আরাকান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন