আরাকানে যুদ্ধাবস্থা : অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ


মংডুসহ কয়েকটি এলাকায় সম্প্রতি আরাকান আর্মির ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে জান্তা সরকার। মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সদস্যরা এই হামলায় অংশ নিচ্ছে। তাই সেখানে যুদ্ধাবস্থা থাকায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত সোয়া লাখের মতো রোহিঙ্গা এসেছে। বিজিবির তথ্যানুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্তের দুই পাশে একটি চক্র রয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। এই বাণিজ্যের সঙ্গে আরাকান আর্মির সদস্য ছাড়াও রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ জড়িত।
এদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে টহলও জোরদার করা হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত চলমান থাকায় নতুন করে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করতে চাইছে। সীমান্তে থাকা ফোর্সকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একাধিক সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে– দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ অধিদপ্তর, বিজিবি, সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সম্মেলন আয়োজন করবে জাতিসংঘ। তার আগে রোববার থেকে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলন, সেখানে রোহিঙ্গাদের সমস্যার কথা শোনা হচ্ছে। এরপর সেটি জাতিসংঘ আয়োজিত সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পথরেখা তৈরি ও তাদের জন্য বাজেট সহায়তার ব্যাপারে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আর্কষণ অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শিক্ষা খাতে প্রয়োজন ৭২ মিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ১০ মিলিয়নেরও কম। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ মোট বাজেট চাহিদা ৯৩৪ মিলিয়ন ডলার হলেও ১২ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৩০৩ মিলিয়ন ডলার। এটি প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তার ৩২ শতাংশ।
তহবিলের এই ঘাটতি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তায় ব্যাপকভাবে হ্রাস করার কারণে দেখা দিয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি সরবরাহ করে আসছে।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নেতা মো. জোবায়ের বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তাই রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসছে। আমরা এখনই ফিরতে চাই; কিন্তু কবে ফিরে যাব সেটা কেউ জানে না। খবর পাচ্ছি জান্তা সরকার নতুনভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে আরাকান আর্মির দখলে থাকা মংডু-বুথেডং টাউনশিপ উদ্ধার করতে পারে। আকিয়াবে (সিতওয়ে) এখনও আইপিডি ক্যাম্পসহ দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসতি রয়েছে।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে মিয়ানমারকেন্দ্রিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা আর্মিসহ (আরআইআর) কয়েকটি গোষ্ঠী। কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মংডু টাউনশিপের কাছাকাছি নাফ নদের তীরে অবস্থান করছে। নাফ অতিক্রম করে রোহিঙ্গারা টেকনাফ অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে আটকও হচ্ছে।

















