রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে উখিয়া টেকনাফবাসী অতিষ্ঠ


রোহিঙ্গাদের উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন, অনিয়ম, অত্যাচারে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় অধিবাসীরা পড়েছে চরম বিপাকে। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের জীবন-যাত্রা অনেকটা ধমকে গেছে এবং দিন দিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিষ ফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গারা। তারা অবাধে বিচরণ করার ফলে সম্তায় শ্রম বিক্রি করায় স্থানীয় শ্রমিক শ্রেণির মানুষের রোজগার বা কর্মসংস্থানে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
তাছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের জন্য ২৫ ভাগ চাকরির কোটা বা সুযোগ দেয়ার কথা থাকলেও হাজার হাজার কর্মসংস্থান এখন কক্সবাজার জেলার বাইরের লোকজনের দখলে চলে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, পাহাড় সংলগ্ন চাষাবাদের জমিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপহরণের ভয়ে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। অহপরণের পর মুক্তিপণ না পেলে হত্যা, ক্যাম্পগুলোকে ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি, বনাঞ্চল ধ্বংস করে বসতি স্থাপন, নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ, এনজিওদের স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে উখিয়া টেকনাফবাসী।
সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিচ্যুত ১ হাজার ২০০ জন স্থানীয় শিক্ষকদের বিনা নোটিশে ছাঁটাই করা হয়েছে। ফান্ড সংকট অজুহাতে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তর ফলে শত শত শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এনিয়ে উখিয়া টেকনাফে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। এতে পুলিশ লাটিচার্জ ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-নেত্রীসহ প্রায় ২৭ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ আলোচনার মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও রোহিঙ্গাদের সাথে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা, মারামারিসহ নানা ঘটনা লেগেই আছে। বিশেষ করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সাথে কিছু রোহিঙ্গা মিলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং অস্ত্র ব্যবহার এখন অহরহ ঘটছে। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়রাও বেকায়দায় পড়ছেন।
এব্যাপারে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মর্জিনা আক্তার ছিদ্দীকি বলেন, মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেরাই তাদের কাছে জিম্মি হতে চলেছি। অপহরণ, ডাকাতি, মাদকসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হয়েছে রোহিঙ্গা। তাদের কারণে কর্মস্থান হারাচ্ছে স্থানীয়রা। যতদ্রুত প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান মনে করছেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা এনসিপি নেতা ও শিক্ষক সায়েম সিকদার বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আইন-শৃংখলার অবনতি, অপহণের ভয়ে পর্যটন খাত বন্ধসহ স্থানীয়রা আতংকে রয়েছে। তাছাড়া অস্ত্র ও মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সরেজমিনে আরো জানা যায়, উখিয়া টেকনাফের মানুষ মানবিক কারণে নিজেদের চাষাবাদের জমি ছেড়ে দিয়েছিল রোহিঙ্গাদের। কিন্তু এখন রোহিঙ্গাদের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের জন্য পঁচিশ ভাগ চাকরির কোটা বা সুবিধা থাকলেও হাজার হাজার কর্মসংস্থান এখন কক্সবাজার জেলার বাইরের লোকদের দখলে। এনজিওতে স্বজনপ্রীতির ফলে স্থানীয়রা চাকরি পায় না। তাই স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবী জানাচ্ছে এলাকাবাসী।
টেকনাফ ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউসার সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাভাবিক নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। যে কোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা প্রস্তুত আছে।

















