রোহিঙ্গারা সসম্মানে তাদের দেশে ফেরত যেতে চান : মিজানুর রহমান


২৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে। শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কার্যালয়ের কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, এটি আগমনের বর্ষপূর্তি নয়, এটা হলো জেনোসাইডের অষ্টম বর্ষপূর্তি। এই দিবসটি তারা বিগত বছরগুলোতেও গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এর মাধ্যমে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় যে, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও তাদের সহযোগিরা আমাদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। তারা এর সঠিক বিচার চায়। আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার যে বিচার চলছে তার দ্রুত নিষ্পতি চায়। আরেকটি চাইছে যে, তারা সসম্মানে তাদের দেশে ফেরত যেতে চায়। তারা এই ক্যাম্পের অসহনীয় জীবনে আর থাকতে চায় না। রোহিঙ্গা আগমনের আজ ৮ বছর পূর্তিতে এসে আমরা যারা এখানে কাজ করছি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, এনজিও, আইএনজিও সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দাতা সংস্থাগুলোও বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে ক্লান্ত।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতনের মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বনভূমিতে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাস করছে। সেই থেকে আজ অবধি একজন রোহিঙ্গাও তাদেও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। উল্টো রোহিঙ্গারা আসছে প্রতিনিয়ত।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি ও শরনার্থী রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী আর্ন্তজাতিক সম্মেলন। সম্মেলনে আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য রেখেছেন।
রোহিঙ্গারা বলছেন, তারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যেতে চায় সম্মান আর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন রোহিঙ্গারা।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত বিলম্ব ততই স্থানীয়দের উপর প্রভাব পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা বলছে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে বিশৃংখলা তৈরি হবে।
রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার জুবায়ের বলেন, আর্ন্তজাতিক সহায়তার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা ও দাবীকৃত শর্তের মধ্য দিয়ে ফিরে যেতে চায় নিজ দেশ মিয়ানমারে।

















