মুক্তিযুদ্ধে চাকমা ইস্যুসহ নানামুখী চাপে সর্ব মিত্র চাকমা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’র কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী সর্ব মিত্র চাকমা নানামুখী চাপে পড়েছেন। ছাত্রশিবির প্যানেলের ফাতেমা তাসনিম জুমার মুক্তিযুদ্ধে চাকমা ইস্যুতে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে সর্বমিত্র চাকমা এখনো কোনো বক্তব্য না দেয়ায় পাহাড়িরা তীব্র ভাষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর সমালোচনা করছেন। সর্বমিত্র’র ভাষায় যা ’গালিগালাজ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে বলেও শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন সর্বমিত্র চাকমা।
পাহাড়ের আরেক সন্তান স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক প্রার্থী সুর্মী চাকমা সর্বমিত্র চাকমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে তোমার জাতির অবদানকে যে এই ভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে, আমি তোমার মতামত জানতে চাচ্ছি।’
সর্বমিত্র মিত্র চাকমাকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, ‘ফাতেমা তাসনিম মুক্তিযুদ্ধে চাকমা জাতিগোষ্ঠীর অংশীদারত্ব অস্বীকার করেছেন। শিবির সমর্থিত যে প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট, সেখানে একজন চাকমা সদস্য আছেন, এটা আপনারা সকলেই জানেন। সর্বমিত্র চাকমা সেই প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। আমি তার কাছেও জানতে চাই, ছোটভাই তোমার জাতিকে যে এইভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে তোমার জাতির অবদানকে যে এই ভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে, আমি তোমার মতামত জানতে চাচ্ছি। তোমার প্যানেল যে ইনক্লুসিভিটির কথা বলে, সেই ইনক্লুসিভিটি আজ কোথায়। তোমার প্যানেলের একজন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রার্থী তিনি তোমার জাতির মুক্তিযুদ্ধে যে অবদান অস্বীকার করছেন। সর্বমিত্র চাকমা আমি তোমার স্টেটমেন্ট জানতে চাচ্ছি। তুমি কি তার সাথে একমত, তুমিও কি নিজের জাতির মুক্তিযুদ্ধের অবদান তোমার প্যানেলের সেই সদস্যের মতো অস্বীকার করবে?
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী ফাতেমা তাসনিম জুমা মহান মুক্তিযুদ্ধে চাকমা সম্প্রদায়ের অবদান অস্বীকার করে ৩০ আগস্ট দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেল ও বাম ছাত্র সংগঠনের প্যানেল সংবাদ সম্মেলন করেছে। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সুর্মী চাকমা ও বাম ছাত্র সংগঠনের প্যানেলের হেমা চাকমা জুমার বক্তব্যের বিরোধীতা করে তীব্র প্রতিবাদ জানালেও সর্বমিত্র চাকমা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি।
হেমা চাকমা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের বিকৃতি এবং হীনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টার জন্য জুমা এবং শিবির সমর্থিত প্যানেলের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’ শিবির সমর্থিত প্যানেলের জুমা কিংবা সর্বমিত্র চাকমা কেউই এ বিষয়ে ক্ষমা কিংবা দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দেননি।
সর্বমিত্র জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, আমার আসল লড়াই ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
সর্ব মিত্র চাকমা লেখেন, আপনাদের সমালোচনাগুলো পড়ি, যারা লাগাতার পেছনে পড়ে আছেন, তাদের গালিগালাজগুলোও চোখে পড়ে, অতটা আঘাত করে না। সব ভেবেই তো স্রোতের বিপরীতে গিয়ে স্রোতেই ভেসে থাকা। তবে রাতে ঘুমটা উধাও হয়ে যায়। স্তব্ধ থাকি কিছুক্ষণ।
তিনি বলেন, ১৮ তারিখ মনোনয়ন নেয়ার সময় জানতাম, কী কী আসতে যাচ্ছে সামনে। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানোর। মূলত ৯ সেপ্টেম্বর আমার আসল লড়াই নয়, আমার আসল লড়াই ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকা।
সর্ব মিত্র চাকমা আরো লেখেন, এইতো, আপনাদের শত আঘাতেও টিকে আছি। নির্ঘুম, তাতে কি হয়েছে! যেনতেনভাবে টিকে থাকাটাই আসল! আমি কিন্তু মোটেও বলছি না, আমাকে রেহাই দিন। গালিগালাজ করুন, আমি মোটেই ক্লান্ত নই।
















