‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তবলীর কিছু ইতিবাচক, আশাপ্রদ এবং কিছু বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী’
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
গত ৭ জানুয়ারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে গৃহীত সিদ্ধান্তবলীর কিছু সিদ্ধান্ত ইতিবাচক, আশাপ্রদ এবং কিছু সিদ্ধান্ত পক্ষাপতদুষ্ট, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী বলে পাহাড়ী নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে দাবী করা হয়েছে।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গৌতম দেওয়ান স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জানুয়ারী ২০১৫ তারিখে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় গৃহীত কতিপয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।
উক্ত সভার কতিপয় সিদ্ধান্ত যেমনি ইতিবাচক ও পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজকে যেমন আশান্বিত করে, তেমনি অনেক সিদ্ধান্ত যেমন- ‘‘কোন দেশী-বিদেশী ব্যক্তি/সংস্থা কর্তৃক পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতীয়দের সাথে সাক্ষাৎ কিংবা বৈঠক করতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী/বিজিবি এর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে”- এ মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজকে অতিশয় ক্ষুব্ধ করেছে।
এ সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে এটাই প্রমাণ করে যে, উপজাতীয়রা কোন না কোন ধরনের সন্দেহভাজন কর্মে লিপ্ত, যে কারণে উপজাতীদের সাথে বাইরের যে কোন দেশী কিংবা বিদেশী সংস্থার সাক্ষাৎকালে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী/বিজিবি’র উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হচ্ছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালীদের সাথে বা কোন মৌলবাদী ব্যক্তি/গোষ্ঠীর সাথে কোন দেশী কিংবা বিদেশী সংস্থা সাক্ষাৎ করতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী/বিজিবি এর উপস্থিতির প্রয়োজন হচ্ছে না। এ সিদ্ধান্তটি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু দুর্ভাগ্যজনক ও আপমানজনকই নয়, এটি একটি পক্ষাপতদুষ্ট, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী সিদ্ধান্ত।
এছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত এটাও প্রমাণ করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীরা রাষ্ট্রের কাছে আস্থাভাজন নয়, যতটা না মৌলবাদীরা । পার্বত্য চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের পক্ষে গৌতম দেওয়ান এ বিবৃতি প্রেরণ করেন।
বিবৃতিতে অন্য আরো যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, উষাতন তালুকদার এমপি, মংসানু চৌধুরী, বিজয় কেতন চাকমা, এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, ইন্দুলাল চাকমা, প্রদদেন্দু বিকাশ চাকমা, প্রসন্ন কুমার চাকমা, এঞ্জেলা দেওয়ান, অনিরুদ্ধ চাকমা, যতীন বিহারী চাকমা, দেবী প্রসাদ দেওয়ান, মাধবীলতা চাকমা, স্নেহকুমার চাকমা, মঙ্গল কুমার চাকমা, সুজিত তালুকদার, শ্যামপ্রসাদ চাকমা, জহরলাল চাকমা, সঞ্জিত চাকমা, রবি শঙ্কর চাকমা, নিষ্কৃতি চাকমা, কালিধর চাকমা, চা থোয়াই মারমা ও ইন্টু মনি তালুকদার।



















