বিক্ষোভে টালমাটাল ইরান, আন্দোলন দমাতে কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটিতে চলমান গণবিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ আখ্যা দিয়ে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্দোলন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে ইরানের প্রশাসন। এরমধ্যে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই অস্থিরতা সরকার কোন ভাবেই সহ্য করবে না।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইশারায় এই বিক্ষোভ হচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজ করছে। তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে এবং বিদেশিদের ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে খামেনি বলেন, তার হাত ইরানি জনগণের রক্তে রঞ্জিত।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত চার সদস্য নিহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনগণের ‘যৌক্তিক দাবি’ শোনার কথা বললেও সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী মহল কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের দাবি, এই বিক্ষোভ বিদেশি শত্রুদের মদদে পরিচালিত।
মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীদের আন্দোলন থেকেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবারও এই ব্ল্যাকআউট বজায় ছিল, একই সঙ্গে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে বিমান চলাচল বাতিল করা হয়।
বিক্ষোভ নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তারা হতাহতের কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে তার জন্য ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানকে খুব শক্তভাবে জানানো হয়েছে—এমন কিছু হলে তারা চরম পরিণতি ভোগ করবে।
তবে ট্রাম্প ইরানের স্বঘোষিত ‘ক্রাউন প্রিন্স’ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। এতে বোঝা যায়, তেহরানের সরকার পতন হলে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো বিকল্প নেতৃত্বকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত নয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হলি ড্যাগ্রেস অ্যাসোসিয়েটেড বলেন, পাহলভির আহ্বান বিক্ষোভের গতিপথ বদলে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, অনেক ইরানি তার আহ্বান গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামছে।
ড্যাগ্রেস আরও বলেন, এই কারণেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—যাতে বিশ্ব এই বিক্ষোভ দেখতে না পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এতে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।”
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা “অন্য দেশের একজন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে নিজেদের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে—ইঙ্গিতটি ছিল ট্রাম্পের দিকে। ভাষণের সময় উপস্থিত শ্রোতাদের কণ্ঠে শোনা যায় স্লোগান ‘মৃত্যু আমেরিকার’।
উৎস : আলজাজিরা

















