মসজিদের নাম ভাঙিয়ে

বান্দরবানে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি বিক্রির অভিযোগ

fec-image

বান্দরবানে সদরে কুহালং ইউনিয়নের মসজিদ নাম ভাঙিয়ে দিন-রাত স্কেভেটর চালিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমি মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তাহের নামে একব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে মাটি কাটা হচ্ছে, দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে চলছে এই কার্যক্রম। এতে একের পর এক ফসলি জমি কৃষির উপযোগিতা হারাচ্ছে। তাছাড়া গহীন এলাকার হওয়াতেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন ধ্বসযজ্ঞ কার্যক্রম চলমান রেখেছে তারা। আর কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগ কেটে ট্রাকভর্তি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জমি কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি খুব একটা চোখে পড়ছে না। কেননা গহীন এলাকায় এসব কর্মকাণ্ডের কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি। মাটি বিক্রি করে মাটি পাচার হচ্ছে অন্যস্থানে আর অজুহাত দেখাচ্ছে মসজিদ আর কবর স্থান ভরাটে। গভীর রাতে যেমন মাটি কাটা হচ্ছে, তেমনি দিনের আলোতেও প্রকাশ্যে চলছে এই কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুহালং ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া এলাকায় স্কেভেটর মাধ্যমে জমিতে কাটা হচ্ছে মাটি৷ সরবরাহের জন্য তিন থেকে চারটি ডাম্পার রয়েছে। গত একমাস ধরে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। সেখানে শ্রমিক হিসেনে নিয়োজিত রয়েছে কয়েকজন। প্রতি গাড়ি মাটি সরবরাহ করলে ৬০০ টাকা করে পাচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ী। তবে সেসব মাটি মসজিদ আর কবর স্থানে ভরাট করা হচ্ছে দাবি করেন ব্যবসায়ী তাহের।

মুসলিম পাড়া বাসিন্দা ছৈয়দ ও মুনসুর বলেন, একমাস ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। দিনেও যেমন কাটছে সারারাত ও কাটা হচ্ছে। আমরা ঘুমাতে পারি না। আর মসজিদ নাম ভাঙ্গিয়ে মাটিগুলো অন্যস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী তাহের বলেন, প্রতি গাড়ি বিক্রি করছি ৬০০ টাকা দরে। এসব মাটি ঠিকাদার জহিরকে দেয়া হচ্ছে আর মাটিগুলো কবর আর মসজিদ ভরাটে জন্য নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে প্রশাসন থেকে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। বিকালে এসে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। যেহেতু অভিযোগ এসেছে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত বিরুদ্ধে আইননুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন