লামায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত

লামা প্রতিনিধি:
লামা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের অভাবে মেরামত ও পুন:নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি।
কম্পোনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াজকরুনী জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’য় স্কুলের টিনের চাল সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। ঈদের পরে স্কুল খুলেছে। বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম করানো যাচ্ছে না। মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, স্কুলের পাকা ও কাঁচা দুটি ভবন বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ১০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার যতীন্দ্র মোহন মন্ডল জানিয়েছেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘূর্ণিঝড় মোরা’র কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান পাড়া পাড়া কেন্দ্রের পাড়াকর্মী হোসনেআরা বেগম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে কেন্দ্রটির চাল বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে কেন্দ্রটির অবস্থা খুবই নাজুক। শিশুদেরকে লেখাপড়া করানোর মত কোন পরিবেশ বর্তমানে পাড়া কেন্দ্রে নাই। মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাহিয়া আবেদন করা হয়েছে। তবে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় নি।

প্রকল্পের লামা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে লামার ৪৯টি পাড়া কেন্দ্রের ক্ষতি হয়েছে। পাড়া কেন্দ্রগুলো মেরামত করা না হলে শিশুদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হবে। লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডেও চেয়ারম্যান পাড়া নারকাটা ঝিরি মসজিদ ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সভাপতি করিমুল মোস্তফা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্থ হয়। লামা উপজেলা পরিষদের প্রাকৃতিক দূর্যোগ তহবিল হতে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করার পরও কোন অর্থ বরাদ্দ মিলেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকজন অভিযোগ করে জানিয়েছেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় এডিপির অপ্রত্যাশিত খাত হতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করার পরও কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। লামা উপজেলায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ খাতে গত মে মাসে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতে বরাদ্দ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লামা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব্ মোহাম্মদ ইসমাইল ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের সহ অনেকে।
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় লামা উপজেলায় এডিপির অপ্রত্যাশিত খাত হতে বরাদ্দকৃত ৩০ লক্ষ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুকূলে বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমার নিকট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত করার জন্য বরাদ্দ দেওয়ার মত কোন টাকা নেই।

















