একাধিক সুযোগ নষ্ট করে ঘানার কাছে আটকে গেলো ইংল্যান্ড

fec-image

বিশ্বকাপে গোলের বন্যার মাঝেও বোস্টনে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। টুর্নামেন্টে রেকর্ড ১৩৭তম গোল হওয়ার কিছুক্ষণ পরই গোলশূন্য ড্রয়ের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। ঘানার শক্ত রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়ে ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে ইংল্যান্ডকে।

প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া দুই দলই দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও ফলটি বেশি হতাশার ইংল্যান্ডের জন্য। কারণ পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে আধিপত্য ছিল তাদেরই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে তাদের বল দখলের হার ছিল ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি টমাস টুখেলের দল। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, যা চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম ঘটল।

ঘানা শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। থমাস পার্টেকে সামনে রেখে দুই স্তরের রক্ষণব্যূহ গড়ে তোলে আফ্রিকার দলটি। ডেকলান রাইস দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। মাদুয়েকের ক্রস থেকেও হেডে সফল হননি রাইস।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। এরপর ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে শেষদিকে। বুকায়ো সাকার জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। মরগান ও’রেইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে মার্ক গেহির হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে ঘানার রক্ষণভাগ।

ঘানার জন্য এই ড্রয়ের মূল্য অনেক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোল না খাওয়ার কীর্তি গড়েছে ব্ল্যাক স্টাররা। প্রথম ম্যাচে পানামাকে হারানোর পর এবার ইংল্যান্ডকে রুখে দিয়ে শেষ ৩২-এর আশা আরও জোরালো করেছে তারা।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে জুড়ে গেছে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। বিশ্বকাপে এটি তাদের ২৩তম ড্র, যা যে কোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ১৩টি ম্যাচই শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়, এটিও টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আরেকটি পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডের হতাশা আরও বাড়াবে। ম্যাচে তাদের বল দখলের হার ছিল ৭৮.৮ শতাংশ, যা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, ফুটবলে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর গোল করতে ব্যর্থ হওয়া কোনো দলের জন্য এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড।

দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। সমান চার পয়েন্ট নিয়ে ঘানাও রয়েছে নকআউট লড়াইয়ে। ফলে শেষ ম্যাচের আগে দুই দলের ভাগ্যই এখনো নিজেদের হাতেই।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইংল্যান্ড, ফুটবল, বিশ্বকাপ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন