কাপ্তাই লেকে কচুরিপানা: ৫ উপজেলার নৌ যোগাযোগে বিঘ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাঙামাটি সদর, লংগদু, জুড়াইছড়ি, বিলাইছড়ি, বাঘাইছড়ির সাথে নৌ-যোগাযোগে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে কচুরীপানা। অনেক আগে থেকে এ সমস্যা থাকলেও সমাধানে এখন পর্যন্ত কোন কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন যাবৎ ধরে কচুরীপানা রাঙামাটির নৌ-যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটালেও এ সমস্যা সমাধানে কারো ভূমিকা এখনো চোখে পড়েনি। কচুরীপানা নামক সমস্যাকে সমাধানের জন্য বিভিন্ন মহল বিভিন্ন সময় আলোচনা করলেও তা আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। নৌ-পরিবহন মালিকরা বিভিন্ন সময় এ সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায়ের জন্য বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হলেও কোন স্থায়ী সমাধান পায়নি।
কচুরীপানা সমস্যা নিয়ে রাঙামাটি সদরের বোট চালক কাদের মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা অনেক বছর যাবৎ ধরে কচুরীপানার কারণে বোট চালাতে হিমসিম খাচ্ছি। এ কচুরীপানাগুলো আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে কিন্তু এর থেকে মুক্তির পথ এখনো খুঁজে পাইনি।
এদিকে কচুরীপানা নামক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে আশার বাণী শুনিয়েছেন রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রমনী কান্তি চাকমা। এ ব্যাপারে তিনি জানান, পৃথিবীর যা কিছুর সমস্যা রয়েছে, তার সমাধানও রয়েছে। তিনি বলেন, কচুরীপানা বর্তমান সময়ে সমস্যা হলেও এ সমস্যাটাকে চাইলে আমরা সম্পদে পরিণত করতে পারি।
তিনি জানান, কচুরীপানার সমস্যা সমাধানে আমরা বিভিন্ন সময় জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করেছি এবং সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছি। আপাতত কচুরীপানার সমস্যা সমাধানে কোন উপায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে কচুরীপানাকে আমরা চাইলে জৈব সারে পরিণত করতে পারি। এর জন্য ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন। কোন বে-সরকারী সংস্থা যদি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ কাজে অগ্রসর হয় এবং জৈবসার তৈরি করে কৃষকদের মাঝে কম দামে বিতরণ করে তাহলে কিছুটা হলেও এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
কোন উদ্যোক্তা উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো কোন উদোক্তা উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সরকার এ ব্যাপারে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কচুরীপানাকে জৈবসারে পরিণত করার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে। নদী থেকে তুলে আনা, প্রক্রিয়াজাতকণের মাধ্যমে সার তৈরি এবং শ্রমিক খরচ সবকিছু মিলে অর্থের সামঞ্জস্য রাখার মাধ্যমে কৃষকদের স্বল্পমূল্য জৈবসার বিতরণ সবকিছু দীর্ঘ পরিকল্পনার ব্যাপার।
তিনি জানান, সরকার এ মূহর্তে কচুরীপানাকে সম্পদে পরিণত করার আপাতত কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। তবে কোন বে-সরকারী উদোক্তা যদি এ ব্যাপারে অগ্রসর হয় আমরা তাকে স্বাগত জানাই।

















