Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

পাহাড়ে তিন দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাইন, বৈসুক, বিষু ও বিহু শুরু

Rangamati bizu pic01 copy

চৌধুরী হারুনুর রশীদ, রাঙামাটি:

পাহাড়ে বসবারত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক ও প্রাণের উৎসব তিন দিনব্যাপী বিজু, সাংগ্রাইন, বৈসুক, বিষু ও বিহু শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। পাহাড়ীদের এ উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাইন, ত্রিপুরারা বৈসুক, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু এবং অহমিকারা বিহু বলে।

পার্বত্য পাহাড়ীদের এ প্রাণের উৎসব বিজুকে ঘিরে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের ঘরে ঘরে। শহরাঞ্চলসহ পাহাড়ি পল্লী-গ্রাম জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ ও সাজ সাজ রব। চাকমারীতি অনুযায়ী রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ী ঘাটে পানিতে ফুল ভাসিয়ে ফুলবিজু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বিজু শোভাযাত্রা। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পার্বত্য ‘আদিবাসী’ ফোরামের সভাপতি প্রকৃতিরঞ্জন চাকমা, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জগৎ জ্যোতি চাকমা, সাবেক সিনিয়র জেলা যুগ্ম জজ ও জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন দেওয়ান, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. মানিক লাল দেওয়ান, সাবেক প্রকৌশলী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগতজ্যোতি চাকমাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

Rangamati bizu pic06 copyপাহাড়ীদের নানা বাদ্য বাজিয়ে সংগীত সহকারে শোভাযাত্রাটি রাঙামাটি পৌর প্রাঙ্গণ হতে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজবাড়ী স্টেডিয়ামের চত্ত্বর গিয়ে শেষ হয়। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাঙামাটি পৌর প্রাঙ্গণে পাহাড়ী নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় সমবেত হতে থাকে। শোভাযাত্রায় জুম্ম শরণার্থী পুনর্বাসনের দাবিসহ নানা ইস্যু সম্বলিত পোস্টার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।

আগামী ১৩ এপ্রিল পাহাড়ীদের ঘরে ঘরে মূলবিজু এবং ১৪ এপ্রিল গোজ্যেপোজ্যে দিন উদযাপিত হবে।

শোভাযাত্রা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সংসদ্য উষাতন তালুকাদার দেশবাসীকে বিজুর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ী জনগণের স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। পার্বত্যাঞ্চলের যে বাস্ততা তা হচ্ছে এখানকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এবারের বিজুর মূল উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়, জুম্ম সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করা। তিনি বিজু দিনের মূল দাবি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন বলে উল্লেখ করেন।

‘আদিবাসী ফোরামে’র সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা জুম্ম জনগণের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এছাড়া উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটিতে বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসুক, বিষু, বিহু ২০১৫ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শনিবার বেলা দেড়টায় তুমব্র খেলা, বিকাল ৩টায় বলীখেলা ও বিকাল সাড়ে ৫টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টায় শহরে রাজবাড়ীঘাটে সার্বজনিনভাবে ফুল ভাসানো হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমা এতে প্রধান অতিথি থাকবেন। বিকালে পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন