বন্দর লিজের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল চাইছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি

fec-image

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে লিজ দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল চাইছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। এই ছাত্র সংগঠনটি বলছে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে তড়িঘড়ি করে কোন সিন্ডিকেটের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের লিজ দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে তড়িঘড়ি করে কোন সিন্ডিকেটের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেয়া হচ্ছে। স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, সরকারেক অবশ্যই দেশবিরোধী এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমাতে সৈরাচারি কায়দায় শ্রমিক নেতাদের ট্রান্সফারসহ সরকারি নির্দেশে নানানভাবে দমন-পীড়নের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এসব দাবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের কনটেইনার টার্মিনাল ‘নিউমুরিং টার্মিনাল’ ইজরাইল-ইন্ডিয়ার ঘণিষ্ঠ পার্টনার আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পূর্বে আওয়ামীলীগ একটি এবং ইন্টেরিম ২টি– এই পুরো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ টেনে আনাসহ বাংলাদেশেকে সোমালিয়া-সোমলিল্যান্ড, ইউক্রেন ও সুদান-ইয়েমেন বানানোর চেষ্টা করছে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা।

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কেবল ‘টার্মিনাল অপারেটর’ হিসেবে নয়, বরং আফ্রিকান মডেল অনুসরণ করে ৩০-৪০ বছরের জন্য ‘কনসেশনিয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা, দেশীয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশি কনসেশনিয়ারের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্ভিক্ষ এবং সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দরে যেখানে প্রতি কন্টেইনারে (TEU’s) গড়ে প্রায় ১৬১-১৬৭ মার্কিন ডলার রেভিনিউ পাওয়া যায়, সেখানে বিদেশীদের কাছে কনসেশন চুক্তিতে আনুমানিক ২০-৩০ ডলার পাওয়া যায়, যেটা বছরে শুধু কনটেইনার হ্যান্ডিলিংয়েই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে দেশের।

সংগঠনটির নেতারা আরো বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে বিডের সুযোগ না দিয়ে আওয়ামী রেজিমের অনুসৃত পথে অনৈতিকভাবে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর পোর্টের মত চট্টগ্রাম বন্দরকে আমরা একটি রিজিয়নাল হাব বানাতে চাই। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টার্মিনালস, মেডলগ – এরা কখনই চায় না বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর রিজিয়নাল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। রিজিয়নাল হাব হতে বাধা দিতেই দেশী-বিদেশী লবিস্টরা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি লিজ দেয়া ভারত-ইজরাইলের ‘আইমেক করিডর’ পরিকল্পনার অংশ। এতে একবার যুক্ত হয়ে গেলে চট্টগ্রাম বন্দর ইজরাইল-ইন্ডিয়ার সিন্ডিকেট থেকে আর বের হতে পারেবে না! এছাড়া I2U2 (India, Israel, UAE, USA) মাল্টিলেটেরাল চুক্তির থাকায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চট্টগ্রাম বন্দর চলে গেলে মাল্টিলেটেরাল পার্টনার হিসেবে আরব আমিরাতের ঘণিষ্ঠ মিত্র ভারত, ইজরাইল ও আমেরিকার পরোক্ষ উপস্থিতি, প্রভাব ও তাদের বার্গেইনিং পাওয়ার আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে নিশ্চিত হবে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। ‘সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বন্দরও বিদেশিরা চালায়’ মর্মে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে, অথচ বাস্তবে সিঙ্গাপুরের একটি কন্টেইনার টার্মিনালও বিদেশি অপারেটররা চালায় না। এমনকি ভিয়েতনামে কোনো টার্মিনাল এককভাবে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে দেয়া হয় নি। এককভাবে বিদেশীদের দেয়া হয়েছে মূলত আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোতে।

সংগঠনের নেতারা দাবি তুলছেন, সরকারকে অবশ্যই নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে লিজ প্রক্রিয়া থেকে অনতিবিলম্বে ফিরে আসতে হবে। নইলে তীব্র আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহবায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহবায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুব, আল আমিনসহ আরো অনেক শিক্ষার্থী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন