বান্দরবান আনসার কমান্ড্যান্ট কর্তৃক অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
জমির উদ্দিন:
বান্দরবানে জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট কর্তৃক অন্ত:স্বত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর গত সোমবার বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার অজুহাতে হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়িয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানাগেছে, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট সেলিমুজ্জামানের সাথে চলতি বছরের ২৫ জুলাই সোনিয়ার (২৪) বিয়ে হয়। সোনিয়ার বাবা মো. আজিজ ছিলেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ল্যাব টেকনিশিয়ান। চলতি বছরের মার্চে হৃদরোগে সে মারা যায়। আজিজের মৃত্যুর পর পরিবারে অভিভাবক না থাকায় আনসারের অফিসার হিসেবে সোনিয়াকে সেলিমুজ্জামানের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে সোনিয়ার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে তার স্বামী সেলিমুজ্জামান।
ইতিমধ্যে সোনিয়া ২ মাসের অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়ে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অহেতুক কারণে মারধর করে সোনিয়াকে। নির্যাতনের পর সোনিয়ার শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হলে ঐ দিনই তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ৪ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার স্বামী তাকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ডিভোর্স না পাওয়ায় তাকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ডিভোর্স নেয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে হাসপাতালের ছাড়পত্র নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে সোনিয়ার প্রতিবেশী কামাল জানায়, বিয়ের পর থেকে সোনিয়া কয়েক বার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তিনি আরো জানান, ভয়ভীতি দেখিয়ে সোনিয়াকে তালাকনামায় স্বাক্ষর করার জন্য হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নেয়ার জন্য নাটক করছে তার স্বামী সেলিমুজ্জামান। সে যেন হাসপাতাল থেকে সোনিয়াকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে না পারেন সে জন্য হাতপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে বলে জানান কামাল।
সোনিয়া তার নির্যাতন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের পর থেকে তার স্বামী প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাতে মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। তিনি আরো জানান, তার পরিবারের সদস্যদের সাথে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছে। তার আগে আরো ৩টি মেয়েকে বিয়ে করে জোরপূর্বক তালাকনামা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। সোনিয়া তার ৪র্থ স্ত্রী বলে তিনি দাবি করেছেন। তাকে শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও ঠিকমতো খাবার না দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি।
অপরদিকে আনসার কমান্ড্যান্ট সেলিমুজ্জামান জানান, বান্দরবান সদর হাতপাতালে সোনিয়ার ভালভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভর্তির পর ডেন্টাল সার্জন তার চিকিৎসা করেছিলেন। সোনিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরও বমি বন্ধ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামের যে কোনো ভাল ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছি। তাই আমার নিজ দায়িত্বে সোনিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছড়িয়ে নেওয়ার উদ্দ্যোগ নিয়েছি। তবে তিনি সোনিয়ার উপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিব বড়ুয়া জানান, ভর্তি হওয়ার সময় সোনিয়ার উপর নির্যাতনের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তাই তাকে প্রেগনেন্সির চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, সোনিয়াকে সন্ধ্যার মধ্যে ছাড়পত্র না দিলে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অংসুইপ্রু জানায়, প্রেগনেন্সির সমস্যা নিয়ে ভর্তি হলেও তাকে নির্যাতনের আলামত দেখা গেছে। কর্মরত ডাক্তারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


















