মানিকছড়িতে ইউপিডিএফ কর্তৃক বাগান দখলের অভিযোগ, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক


খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মলঙ্গীপাড়া এলাকায় এক বাগান মালিকের প্রায় ২০ একর পাহাড়ি জায়গা জবরদখল করে রাতারাতি ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) দলের বিরুদ্ধে। গত ২৭ মে হতে ৩০ মে পর্যন্ত দিন-রাত মিলিয়ে তড়িঘড়ি করে এই দখলদারিত্ব চালানো হয়। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ বাঙালীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ভূমি হারানোর শঙ্কা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী নানুপুর ওবাইদিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিন (৬০)-এর মালিকানাধীন মলঙ্গীপাড়া এলাকার একটি বিশাল মিশ্র ফল ও পাহাড়ি বাগান টার্গেট করে ইউপিডিএফ।
সংগঠনটির দোছড়িপাড়া পোস্ট পরিচালক প্রকাশ চাকমা, চাঁদা কালেক্টর বাবু মারমা এবং স্থানীয় আঞ্জু মারমার নেতৃত্বে বাগানের আশেপাশে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক পাহাড়ী জনবলকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়। গত চার দিন ধরে দিনে ও রাতে একটানা কাজ করে বাগানের প্রায় ২০ একর জমি দখল করে নেওয়া হয়।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেদখল হওয়া ভূমিতে বাঁশের বেড়া এবং টিনের ছাউনি দিয়ে দ্রুততার সাথে ৮×১২ ফুট আয়তনের অন্তত ১৫টি বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘরগুলো নির্মাণ শেষেই ইউপিডিএফের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তাদের সমর্থিত ও আশেপাশের ভূমিহীন পাহাড়ী পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন নির্মিত ঘরগুলোতে পাহাড়ী পরিবারগুলো বসবাস শুরু করেছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভয় ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে বাগান মালিক বা তার কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
এই ঘটনার পর থেকে মানিকছড়ির সাধারণ বাঙালী জনগোষ্ঠীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ে এভাবে একের পর এক বাঙালীদের ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বৈধ রেকর্ডীয় জমি জবরদখল হতে থাকলে তারা পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। তারা এই সশস্ত্র দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই। শীঘ্রই দখলদার ইউপিডিএফ সদস্য এবং অবৈধভাবে ঘরগুলোতে বসবাসরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
















