পানছড়িতে মৃত্যুকূপ থেকে মোবাইল উদ্ধার

MOBILE

শাহজাহান কবির সাজু,পানছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় মৃত্যুকূপ থেকে মোবাইল উদ্ধার করেছে আবদুর রাজ্জাক নামের এক যুবক। মহালছড়ি ও মাটিরাঙার সিংহপাড়ার ট্রাজেডির রেশ কাটতে না কাটতেই আরো একটি জীবন-মরণ খেলা খেলে ফেলল আবদুর রাজ্জাক।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ৩নং সদর পানছড়ি ইউপির মোহাম্মদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানা যায়, মোহাম্মদপুর গ্রামের আবদুর রহিমের সিমফোনি মোবাইল সেট দুর্ঘটনা বশত: একটি পরিত্যাক্ত রিং টিউবওয়েল গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা প্রায় ৫০ ফুটের অধিক। অবশেষে মোবাইল সেটটি উদ্ধারে এগিয়ে আসে একি গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে রাজ্জাক। সকাল ৯টার দিকে এ উদ্ধার অভিযান দেখার জন্য জমে উঠে দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভীড়। একটি লম্বা রশি ও একটি হাফ পেন্ট পরেই শুরু হয় রাজ্জাকের উদ্ধার অভিযান। একটি লম্বা রশিকে মোটা গাছের সাথে শক্ত করে বেঁধে রশি বেয়ে প্রথম তিন-চার বার কিছুদূর গিয়েও ফেরত আসে রাজ্জাক। অতিরিক্ত গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাব রয়েছে বলে সে জানায়।

এরপর শুরু হয় অক্সিজেন তৈরির কাজ। কয়েকটি গাছের পাতাসহ ডাল কেটে মোটা রশিদ মাথায় বেঁধে গর্তের ভিতর অনেক্ষণ উঠানামা করিয়ে অক্সিজেন তৈরি করে। পরিশেষে ৬ষ্ঠ বারের মত গর্তে প্রবেশ করে মোবাইল সেটটি উদ্ধার করে প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানের সফল ইতি ঘটায় রাজ্জাক। এ সময় উপস্থিত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের চোখে-মুখে পরিলক্ষিত হয় বিষণ্নতার ছাপ।

আবদুর রাজ্জাকের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে সে জানায়, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল এটা উদ্ধার করতে পারব এবং পেরেছি। তবে সে শতভাগ মৃত্যু ঝুঁকি ছিল বলেও জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকার যুবলীগ নেতা মো: ইউছুফ জানায়, এ ধরনের একটি ঘটনা সরাসরি উপভোগ করেছি সত্যি তবে সারাক্ষণ স্নায়ুচাপে ভুগেছি। বার বার মহালছড়ি ও মাটিরাঙার সিংহপাড়ার ট্রাজেডির চিত্র ভেসে উঠেছিল চোখে। আবদুর রাজ্জাকের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার প্রসংসা করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরণের মৃত্যুঝুঁকি না নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − eleven =

আরও পড়ুন