বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে জেএসএস কর্মী নিহত

বান্দরবানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস)’র আরেক কর্মী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম জয় মনি তঞ্চঙ্গ্যা (৪৫)।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের বাকি ছড়ার ৩নং রাবার বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ছেলে জনসংহতি সমিতির স্থানীয় নেতা রিপন তঞ্চঙ্গ্যাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনার পর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুটি টহল দল অভিযানে নেমেছে।

গত মঙ্গলবার (৭মে) রাতে একদল সন্ত্রাসী রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালী এলাকায় হানা দিয়ে জনসংহতি সমিতির কর্মী বিনয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। অপহরণ করে অপরকর্মী পুরাধন তঞ্চঙ্গ্যাকে।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কাছাকাছি এলাকা বাকি ছড়ায় আবারো জনসংহতির এক নেতা সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হলেন।

এদিকে কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সানু প্রু মারমা জানান, অন্ত্রধারী ৫ সন্ত্রাসী ৩নং রাবার বাগান এলাকার তঞ্চঙ্গ্যা পাড়ায় হানা দিয়ে জনসংহতি সমিতির স্থানীয় নেতা রিপন তঞ্চঙ্গ্যাকে (২৮) খোঁজ করে। তাকে ঘরে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাবা জয়মনি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা করে। নিহত জয়মনি এলাকায় লাকড়ি ও কাঠের ব্যবসা করতো।

এ ঘটনার পর বাকি ছড়া ও রাজবিলা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটচ্ছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি তাদের সহযোগী সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনা জানা যায়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওকে) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গেছে। লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ মৃত জয়মনি তংচংগ্যার ছেলে রিপন তঞ্চঙ্গা(২৮) জেএসএস এর অঙ্গসংগঠন যুব সমিতির সদস্য। সন্ত্রাসীরা জয়মনির বাড়িতে এসে রিপন তঞ্চঙ্গ্যাকে খোঁজে এবং তার অবস্থান জানতে চায়।

জয় মনি কিছু না বললে তাকে ডেকে তার বাম কানে ১ টি ও বুকে ১ টি মোট ০২ টি গুলি করেছে। লাশটি পোস্ট মোর্টেমের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আরাকান লিবারেশন পার্টির(এএলপি) সশস্ত্র শাখা আরাকান লিবারেশন আর্মি( এএলএ) যা স্থানীয়ভাবে মগ লিবারেশন পার্টি( এমএলপি) নামে পরিচিত তারা এ ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

গত ৩ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার রাজস্থলীতে জেএসএস ও এএলএর মধ্যে সংঘটিত গুলি বিনিময়ের পর প্রতিশোধ হিসেবে এএলএ একের পর এক জেএসএস নেতাদের খুন করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

ঘটনাপ্রবাহ: আরাকান লিবারেশন আর্মি, আরাকান লিবারেশন পার্টি, এএলএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 4 =

আরও পড়ুন