Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষিত: অতিরিক্ত ফি ফেরত দেয়নি নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা বিদ্যালয়

এসএসসি পরীক্ষা
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:

এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সরকারী নির্ধারিত ও আদায়যোগ্য ফি’র অতিরিক্ত গ্রহণ করা টাকা শিক্ষার্থীদের গত ২০ জানুয়ারীর মধ্যে ফেরত দেয়ার জন্য উচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয় নি।বরং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ম্যানেজিং কমিটি ও কয়েকজন শিক্ষক মিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ প্রয়োগসহ স্কুল নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৪২জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছে। বোর্ড নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়টি প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করে।

এব্যাপারে অভিযোগকারী অভিভাবকদের পক্ষে মনির আহামদ, শফিউল আলম জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার ও কমিটির লোকজন ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত তাদের মেয়ের কাছ থেকে আদায় করেছেন। পরবর্তী ৮ জানুয়ারী দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফি ফেরত দেয়ার হাইকোর্টের একটি আদেশ জানতে পারেন তারা। এ আদেশের প্রেক্ষিতে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষিকা ও কমিটির লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা অভিভাবকদের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অভিভাবকরা ২৮ জানুয়ারী ২০১৫ বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে টাকা ফেরত পেতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, অভিভাবক মহলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্মারক নং- চশিবো/পরী/মাধ্য/পরি-১(৮)২০০০/২১১(৩) মূল্যে অভিযোগের বিষয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১০ মার্চ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকাংশ অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানের লেখাপড়ার স্বার্থে অতিরিক্ত ফি নিলেও প্রতিবাদ করতে পারছেন না। তবে বর্তমানে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার, শিক্ষক রহমত সালাম, আবদুল মালেকসহ ম্যনেজিং কমিটির লোকজন তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক নিজেদের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ম ধামাচাপা দিতে বিদ্যালয় নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

অতিরিক্ত ফি আদায় ও ফেরত না দেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাইক্ষ্যংছড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার বলেন, বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা ও মডেল টেস্টসহ আরো অনেক কিছু খরচ থাকে। যা বিদ্যালয়ের রশিদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশ না মানার বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের প্রতি যথাযথ সম্মান সবার রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে আদায়কৃত টাকা অতিরিক্ত মনে করলে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনায়াসে তা ফেরত দিতে বাধ্য রয়েছেন।

এবিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু শাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সকল শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতে হবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন