উখিয়ায় সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

fec-image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামকে শহরে পরিণত করতে গ্রামগঞ্জে পাকা ও কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করে যাতায়াত সংযোগে উন্নত ব্যবস্থায় বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে এসবে বাধা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

এলজিইডি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের চলতি প্রকল্পে সারাদেশে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দর-জনপদজুড়ে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে বড় অন্তরায় হয়ে উঠেছে কার্যাদেশপ্রাপ্ত লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের কাজের হাতবদল বাণিজ্য।

এরই ধারাবাহিকতায় উখিয়ার প্রত্যান্তঞ্চলে সড়ক নির্মাণে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলমান রয়েছে। সেখানে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন লাইসেন্সধারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দায়সারা ভাবে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে নয়-ছয় করে সরকারি অর্থ লুট করে নিজের আখের গুছাচ্ছে। এসবের তদারকিতে নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযোগ উঠেছে, গয়ালমারা হয়ে ভালুকিয়া সংযোগ সড়ক’ ( কালামিয়া সড়ক) এর কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর একরাম,মাছকারিয়া সড়ক, ও দৌছড়ী সড়ক, দক্ষিণ পুকুরিয়া হতে জামতলী গয়ালমারা সংযোগ সড়কের কাজ করা ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে, ঠিকাদার একরাম গয়ালমারা সড়কের কার্পেটিং কাজের সাব-গ্রেড বক্স ঢালাইয়ে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি ব্যবহার করেছেন। নাম্বার বিহীন পুরাতন ইটের খোয়ার সাথে টেম্পারি বিহীন কাদামাটি মিক্সচার করে সেখানে কাজ চালিয়ে নিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। সড়ক সংস্কার নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ৫০% ইটের খোয়া ও ৫০% বালু মিক্সচার থাকার কথা থাকলেও এই ঠিকাদার একরাম তার উলটো হিসাবে এসব মিক্স্যার করে মালামাল স্টক দিয়েছেন। এসব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি নেই।

একই ভাবে মাছকারিয়া সড়কেও নির্মাণ কাজে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি লাল মাটি ব্যবহার, সিমেন্টের সাথে মাটি মেশানোর চিত্র ধরা পড়ে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ পুকুরিয়া সড়কে ঠিকাদার আসাদেরও একি অবস্থা পাহাড়ি মাটি দিয়ে সাব-গ্রেড বক্সের কাজ করা হয়েছে। সেখানে সম্পন্ন মাটিই দেখা গেছে। ১০% ও বালু নেই এই পাহাড়ি মাটিগুলোতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার বছর বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এ রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছু দিনের মধ্যেই রাস্তাগুলো ভেঙ্গে যাবে। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে বর্তমান নির্মাণ করা সড়কগুলো। ফলে সরকারি বরাদ্দে অবমূল্যায়নের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চলমান নির্মাণ সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করা হচ্ছে। বালুর পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে তার উপর নিম্নমানের পুরানো ইটের খোয়া ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিম্নমানের ইটের ভাঙা অংশ (রাবিশ) দিয়ে কাজ করছেন। ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমানের ইটের খোয়া । রাস্তার কাজে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষের কাউকে এসে তদারকি করতে দেখা যায়নি। এমনকি ইটে পা দিয়ে চাপ দিলেই তা ভেঙে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে স্থানীয় মিস্ত্রি জামাল বলেন, গয়ালমারা হয়ে ভালুকিয়া সড়কে কাজ করা একরামের গাফলতির কারণে কাজের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। সাব কন্টাক্টে দেয়া ঠিাকাদারকে টেন্ডারের চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার কথা বললেও কোন তোয়াক্কা না করে অনুমোদনবিহীন নিম্নমানের বালি ও কংক্রিট দিয়ে কাজ সম্পূর্ণ করে চলছে।
এই রাস্তার কাজ তদারকিতে উখিয়া উপজেলার এলজিডির কর্মকর্তাদের গাফলতি আছে বলেও অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, ৫০% ইটের খোয়ার সাথে ভালো মানের ৫০% বালু মিক্স থাকতে হবে। সাবগ্রেডের বক্সেও পাহাড়ি মাটি নই ২নং বালু যেখানে হালকা মাটি মিক্স থাকলে সমস্যা নেই। সড়কে যারা এসব অনিয়ম করছে আমরা খবর পেলেই কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি।গয়ালমারা সড়কের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন