উখিয়া ও টেকনাফে থ্রিজি-ফোরজি সেবা চালু: টুজি না থাকায় ভোগান্তি

fec-image

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশে পাশে বন্ধ করা দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করেছে মোবাইল অপারেটরগুলো। তবে টুজির কোনো খবর নেই। ঠিকই তৃনমূলের মোবাইল ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি আগের মতই রয়ে গেছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনা পেয়ে ক্যাম্পে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক সেবা চালু করা হয়।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে লাখো লাখো রোহিঙ্গা সমবেত হয়ে তাদের গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছিল। এতে সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িয়ে পড়ে। যার কারণে সরকার ওই দিনের পর মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তারা ঠিকই ওয়াইফাই ও মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নানা কার্যক্রম ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। বন্ধ হয়নি অপরাধমূলক কার্যকলাপ। নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ায় দূর্ভোগ ও যোগাযোগ বঞ্চিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, যাদের কারণে নেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গারা) ঠিকই নানাভাবে মোবাইল ব্যবহার করে তারা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের নিত্যদিনের কাজকর্ম, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা নেটওয়ার্কের তাদের নেটওয়ার্কিং সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয়রা বারংবার রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দপূর্বক নেটওয়ার্ক চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গতকাল থ্রিজি ও ফোরজি চালু করলেও টুজি নেটওয়ার্ক চালু করা হয়নি। এতে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করে দেয়া হবে। পররাষ্ট্র সচিবের এই বক্তব্যের চার দিনের মাথায় ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর সিদ্ধান্ত এলো।

জানা যায়, টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় পুনরায় থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে গত ২৬ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিটিআরসি। বছরখানেক আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্তে সরকারের প্রচুর সমালোচনা হয়। দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা আসে।

ক্যাম্পে ইন্টারনেট সেবা থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পর থেকে জাতিসংঘসহ রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তজার্তিক সংগঠন এটা চালুর বিষয়ে সরকারকে তাগাদা দিয়ে আসছে। এমনকি ঢাকার বিদেশি মিশনগুলোও ক্যাম্পে এই সেবা চালু করতে বারবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিল বলে জানা গেছে। টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় জন্য থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল বিটিআরসি।

এনজিও কর্মী নুরুল আমিন সিকদার বলেন, টুজি ব্যতীত থ্রিজি ও ফোরজি চালু করে লাভ কি? এন্ড্রয়েট মোবাইল সেট ছাড়া সাধারণ মোবাইল দিয়ে কথা বলা যাচ্ছেনা। যার কারণে স্থানীয়দের ভোগান্তি ঠিকই রয়ে গেছে। স্বয়ং সম্পূর্ণভাবে নেটওয়ার্ক দেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলকাবাসী।

এ ব্যাপারে রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানীর কক্সবাজার এরিয়া ম্যানেজার মো. মাহফুজ জানান, যে সব স্থানে টুজি নেটওয়ার্ক নেই, তা যাচাবাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, টেকনাফে, থ্রিজ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 4 =

আরও পড়ুন