উখিয়া থানায় মামলাবাণিজ্য, চরম হয়রানীতে নিরীহ জনগণ

উখিয়া প্রতিনিধি:

উখিয়া থানায় মামলা দায়েরের নামে চলছে টাকার বাণিজ্যের খেলা। শর্তসাপেক্ষে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দায়েরকৃত মামলায় আসামী তালিকায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নিরীহ ব্যক্তিদের। এতে করে সাজানো মামলার শিকার হয়ে পুলিশের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে নিরাপরাধ লোকদের।

এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য পুলিশ সুপারের নিকট দাবী জানিয়েছেন নিরীহ গ্রামবাসীরা।

অভিযোগে প্রকাশ, উখিয়া থানায় গেল ৩০ মে দায়েরকৃত -৪৯নং ১টি মামলা নিয়ে এলাকার সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উক্ত মামলার ১নং আসামী জালিয়া পালং ইউনিয়নের ইনানীস্থ মোহাম্মদ শফির বিল গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র বদি আলম (৪২) সংঘটিত ঘটনার সর্ম্পকে কিছুই জানেনা। এর পরও তিনি আসামী।

এছাড়াও ২নং আসামী একই এলাকার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে বাদশা মিয়া (৫০) কে মামলা রুজু করার আগেই কৌশলে থানায় ডেকে এনে পুলিশ তাকে হাজতে আটক রাখে। একদিন পর দায়েরকৃত মামলায় আসামী দেখিয়ে তাকে কোর্টে সোর্পদ করা হয়।

জানা যায়, ইনানী গ্রামের মৃত রশিদ আহমদের পুত্র নুরুল আমিন (৩৪) বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামালা নং-৪৯ তারিখ ৩০-০৫-২০১৮। এতে আসামী করা হয় ৪ জন সহ বেশ কয়েক জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বাদী দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করেছে, গত ৪ মে কোর্টবাজার পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় তাকে মারধর পূর্বক নগদ টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনা নিয়ে উখিয়া থানায় ওই সময়ে নুরুল আমিন বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় এজাহারটি থানায় মামলা হিসেবে আর রুজু হয়নি। এমনকি উক্ত এজাহারে বদিউল আলম ও বাদশা মিয়ার নাম ছিলনা।

অভিযোগে প্রকাশ, ইনানী শফির বিলে মেট্রো গ্রুপের সাথে বাদশা মিয়া ও বদিউল আলমের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এলাকা বাসীর মতে, নুরুল আমিনকে বাদী বানিয়ে মেট্রো গ্রুপ মোটা অংকের টাকা দিয়ে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে দায়েরকৃত মামলায় আসামীর তালিকায় বদিউল আলম ও বাদশা মিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার শিকার বদিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, কোথায় কোন সময় কার সাথে কি নিয়ে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সে সর্ম্পকে তিনি কিছুই জানেন না। স্থানীয়ভাবে জায়গা জমির বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ গং প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমাকে হয়রানী করার উদ্দেশে অহেতুক মামলায় আসামী করা হয়েছে।

মোটা অংকের বাণিজ্যের মাধ্যমে মামলায় রুজু করে নিরীহ ব্যক্তিদেরকে আসামী করার বিষয় নিরপেক্ষ তদন্ত করলে ঘটনার আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে এমন দাবী সচেতন নাগরিক সমাজের।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 17 =

আরও পড়ুন