উদ্বোধনের অপেক্ষায় রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারে পাঠাগার

 

উপজেলা প্রতিনিধি, রামু :

কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমাবিহারে পাঠাগারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় শ্যামল বিকাশ চৌধুরীর উদ্যোগে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সোসাইটির সংগৃহিত অর্থে পাঠাগারটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে দুর্বৃত্তের হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে এই বৌদ্ধবিহার এবং বিহারের ভেতরে পাঁচ হাজারে বেশি দুর্লভ পুস্তক ও ধর্মীয় গ্রন্থসহ পাঠাগারটি ধ্বংস করে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত আধুনিক মানের কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের তৃতীয় তলায় ৯০০ বর্গফুট আয়তনের একটি কক্ষে এই পাঠাগারটি স্থাপিত হয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি (স্টাফ রিপোর্টার) আবদুল কুদ্দুস রানা জানান, উক্ত পাঠাগারটি উদ্বোধনের জন্যে শীঘ্রই প্রথম আলো সম্পাদক দেশবরেণ্য সাংবাদিক মতিউর রহমান রামু আসছেন। তিনি রামুতে এসে পাঠাগার উদ্বোধন ছাড়াও নবনির্মিত বৌদ্ধবিহার, রামুর বিভিন্ন পর্যটন স্পট এবং সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিমিয় করবেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ট্রিম ইনটেরিয়রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসিফ হুদা বলেন, ইতিমধ্যে তাঁরা বই রাখার জন্য এক পাশে দেয়ালে প্রায় ৩১ ফুট লম্বা ও আট ফুট উচ্চতার একটি অত্যাধুনিক তাক নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ছোট-বড় ২৫ হাজার বই রাখা যাবে।

কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের অধ্যক্ষ ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু সত্যপ্রিয় মহাথের কাজের মান তদারক করছেন। সঙ্গে ছিলেন বিহারের আবাসিক পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু, বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়ুয়া, ব্যাংক কর্মকর্তা অলক বড়ুয়া, রামু প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা দর্পণ বড়ুয়া, রামু রাইটার্স ক্লাবের সভাপতি সুপানন্দ বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি (যুব) রামু উপজেলার সভাপতি সুরেশ বড়ুয়া বাঙ্গালী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রামু উপজেলা সংসদের সভাপতি অর্পন বড়ুয়া, বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রামু উপজেলা শাখার সহসভাপতি দুলাল বড়ুয়া প্রমুখ। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে পাঠাগারটি স্থাপিত হওয়ায় সবাই খুশি।

সত্যপ্রিয় মহাথের বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে রামুর হাজার বছরের বৌদ্ধ সভ্যতা ধ্বংস করে। এই বিহারের পাঠাগারে সংরক্ষিত হাজার বছরের পুরোনো পুঁথিপত্র, বিভিন্ন ভাষার ত্রিপিটক গ্রন্থ, ধর্মীয় গ্রন্থ, গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকীসহ অন্তত পাঁচ হাজার বই পুড়ে গেছে। ধ্বংস হয় ছোট বড় ৩০০ মূল্যবান বুদ্ধমূর্তি। এখন শত চেষ্টা করেও এসব ফেরত পাওয়া যাবে না। তারপরও প্রথম আলো ট্রাস্ট এই পাঠাগার নির্মাণে সহযোগিতা দিয়ে বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। পাঠাগারটি স্থাপিত হলে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন