মণিপুরে বিক্ষোভকারীদের ওপরে গুলি : নিহত ৩, আহত অন্তত ৩০

fec-image

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। এর আগে একটি রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষ্ণুপুর জেলার একটি বিক্ষোভ সমাবেশে গুলি চালানো হলে তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল প্রায় ৫০০ জন বিক্ষোভকারী মোইরাং থানার অন্তর্গত গেলমোল গ্রামে একটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা করে।

নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাদের গাড়িতে আগুন লাগায় এবং সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালানো হয়।

এই ঘটনার আগে একই জেলায় একটি রকেট হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। ৭ এপ্রিল গভীর রাতে মোইরাংয়ের ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই এলাকায় একটি বাড়িতে এই হামলা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউকেএনএ)-এর সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, আফিম এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন পাঁচটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়।

এদিকে মাত্র দুই মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট-এ কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছিল, মণিপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

রকেট হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অ্যাক্টিভিস্ট লিসিপ্রিয়া কাঙ্গুজাম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সেনা শিবিরের কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে এমন হামলা সম্ভব হলো।

উল্লেখ্য, মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত ও ভৌগোলিক বিরোধ চলছে। ২০২৩ সালে মেইতেইদের তপশীলি জাতির অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব ঘিরে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রমাণ করছে, মণিপুরে শান্তি এখনও ভঙ্গুর এবং অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি।

বিবিসি বাংলা

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন