কোটবাজার বর্জ্যে ভরে গেছে ড্রেন, জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা

fec-image

কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজারে অবস্থিত কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে পানি চলাচলের একমাত্র ড্রেনটি বিভিন্ন বর্জ্যে আটকা পড়ে জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পানি চলাচল ব্যহত হয়ে ফসিল জমিতে রোপিত আমন চাষাবাদে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সম্প্রতি এসব বর্জ্য অব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় লোকজন একাধিকবার লেখালেখি করলেও কর্তৃপক্ষ্যের নজরে না আসায় কিংবা উদাসিনতার কারণে কোন ধরণ সুফল পাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন টেকপাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ।

সরজমিনে দেখা যায়, এ উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকার পানি চলাচলের একমাত্র ড্রেনটি কোটবাজার কাঁচা বাজার ব্যবসায়ীদের উচ্ছিষ্ট বর্জ্যসহ ড্রেসিং করা মুরগী ও জবাইকৃত গরুর আবর্জনা এবং নষ্ট হওয়া কাঁচা শাক-সবজি ফেলার কারণে ড্রেনটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে প্রায় সময় বৃষ্টির পানি আটকে পড়ে নিকটস্থ এলাকার জনসাধারণ পানিবন্দি হয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শুধু তাই নয় এই বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশও চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ সময় পথচারী আবুল হোসেন বলেন, কোর্টবাজার কাঁচা বাজার থেকে ভালুকিয়া রোড দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ গুলো মাস্ক পড়েও গন্ধের জন্য আসা যাওয়া করতে পারে না। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাজারের ইজারাদার ও কাঁচা বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুরগী ও গরুর মাংস ব্যবসায়ীরা কাঁচা বাজার সমিতির সদস্য না। তাদের ব্যাপারে বাজারের ইজারাদার বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে কাঁচা বাজার ব্যবসায়ীদেরকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করা হবে।

একই প্রসঙ্গে জানতে বাজারের ইজারাদার নুরুল হুদার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্জ্য অব্যবস্থাপনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিকারুজ্জমান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, বাজার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ইজারাদারের। যদি কোন কারণে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার এতে ব্যর্থ হয়। তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি তা দেখভাল করার কথা। তারাও যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি দেখে থাকেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস্থ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 4 =

আরও পড়ুন