খাগড়াছড়িতে বৈশাখী পূর্ণিমার বর্ণিল উদযাপন

fec-image

ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণের মহিমান্বিত স্মৃতি ধারণ করে সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নিকট অতি পবিত্র শুভ বৈশাখী বা বুদ্ধ পূর্ণিমা। বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়িতে উৎসবমুখর, বর্ণাঢ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান এ ধর্মীয় উৎসব।

শুক্রবার (১ মে) ভোরের আলো ফুটতেই খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়া পাড়া ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে বিশ্বশান্তি কামনায় এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর ও চেঙ্গী স্কয়ার ঘুরে পুনরায় বিহার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। বর্ণিল এ শোভাযাত্রায় শত শত নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর এবং প্রবীণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে জনবল বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পানি দান, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বুদ্ধ পূজা, ধর্মদেশনা এবং সমবেত প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গণ। প্রার্থনায় বিশ্বশান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সকল প্রাণীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মে সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। কারণ এই পূর্ণিমাতেই মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ সংঘটিত হয়েছিল। তাই এ দিনটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মানবতা, শান্তি, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার এক চিরন্তন আহ্বান।

ধর্মীয় নেতারা বলেন, বর্তমান বিশ্বের হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদের সময়ে গৌতম বুদ্ধের মৈত্রী, করুণা ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর বাণী বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় পথপ্রদর্শক হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, বুদ্ধ পূর্ণিমা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন