খাগড়াছড়িতে বিকাশ কর্তৃপক্ষের হয়রানির শিকার উপবৃত্তিধারী কলেজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা!

fec-image

বিকাশ কর্তৃপক্ষ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তিধারী কলেজ পড়ুয়া শত শত শিক্ষার্থীর পূর্বে প্রদত্ত বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে তথ্য হালনাগাদের নির্দেশনা দিয়েছে । সে অনুযায়ী ১৩ ডিসেম্বর ছিল একাউন্ট সচল করার শেষ দিন। কিন্তু খাগড়াছড়ি বিকাশ কর্তৃপক্ষ এবং কলেজের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা!

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি সুবিধা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে করোনা চলাকালীন সময়ে স্ব স্ব কলেজে এসে বিকাশ একাউন্ট খুলেন বিকাশ এজেন্টরা।

খাগড়াছড়ির জেলা সদরসহ ৯ উপজেলার সকল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তি সুবিধা প্রাপ্তদের মধ্যে অনেকের খোলা বিকাশ একাউন্টে সম্প্রতি ম্যাসেজে(বার্তা) বলা হয় আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিভাবকের এনআইডি’র মূলকপি, ছবি, কলেজ প্রত্যায়ণ নিয়ে নিকটস্থ বিকাশ এজেন্টে তথ্য হালনাগাদ করতে।

খাগড়াছড়ির পুরো জেলায় বিকাশের এজেন্ট রয়েছে মাত্র একটি। সেটি জেলার নারিকেল বাগান সড়কে এস.এ.পরিবহন অফিসের সামনে। ফলে জেলার তৃণমূল থেকে গড়ে ৭০/৮০ কিলোমিটার দূর থেকে একজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে হাজির হতে হয়েছে বিকাশ এজেন্ট অফিসে। কিন্তু সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পড়ছে নানা বিড়ম্বনায়!

প্রথমত কলেজ প্যাডে অধ্যক্ষের প্রতায়ণ হবে না, এনআইডি’র সাদাকালো ফটোকপি হবে না। বিকাশ কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে অধ্যক্ষের প্রতায়ণ, নামযুক্ত সীল, কলেজের গোল সীল লাগবে, কালার ছবি ও এনআইডি’র কপি ও অভিভাবক উপস্থিত থাকতে হবে।

তাহলে জেলার দুর্গম জনপদ লক্ষীছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গার তাইন্দং, তবলছড়ি, দীঘিনালার বোয়ালখালি ও পানছড়ি উপজেলার তৃণমূল থেকে যে সমস্ত শিক্ষার্থীও অভিভাবকরা শুধু অধ্যক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত প্যাডে প্রতায়ন নিয়ে আসলো, তাকে আবার বিকাশ অফিস থেকে নির্ধারিত ফরম নিয়ে কলেজে যেতে হবে এবং পরিপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে।

এতে একজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে অহেতুক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে! এই উপবৃত্তি সুবিধা যদি স্থানীয় সরকার অনুমোদিত ব্যাংকে দেয়ার ব্যবস্থা হতো তাহলে শিক্ষার্থীরাও অভিভাবকদের এভাবে হয়রানির স্বীকার হতে হতো না। এভাবেই অপকটে হয়রানির বিবরণ দিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, তৃণমূলের একজন ভুক্তভোগী অভিভাবক!

১৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিকাশ এজেন্ট খাগড়াছড়ি’র অফিস চত্বরে অন্তত ৩/৪শত শিক্ষার্থীও অভিভাবক হয়রানির শিকার হয়েছেন। অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ ফেরৎ যেতে হয়েছে।

দীঘিনালার দূর্গম জনপদ বোয়ালখালী থেকে আসা অভিভাবক মংসাইঞো মারমা বলেন, আমি গত ২ দিন এসে ফেরৎ গেছি! আজ আবার আসলাম। সকাল ১১টা থেকে এখন বেলা ২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বিষয়টি অমানবিক!

এভাবে গত ২ সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হলেও বিষয়টি সহজ করার বিষয়ে বিকাশ এজেন্ট কিংবা কোন প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ স্থানীয় ব্যাংকে হিসাব খোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ প্রেরণ করা হলে দরিদ্র পরিবারগুলোর সময় ও অর্থ অপচয় কম হতো।

এ প্রসঙ্গে এজেন্টে দায়িত্বরত কর্মী নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিকাশ কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী সকল কাগজপত্র পরিপূর্ণ না হলে আসলে আমরা সাধারণ কর্মীদের কিছু করার নেই। এক সাথে শেষ সময়ে সকলে এসে ভীড় করায় একটু ভোগান্তি হচ্ছে!

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, বিকাশ এজেন্ট
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − eight =

আরও পড়ুন