চকরিয়ায় অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জায়গা দখলের অভিযোগ

fec-image

চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ভিলিজারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছন, বাপের নাম এনামুল হক, মাতার নাম মৃত শাহজাহান বেগম। ২০১৫ সালের ১৮ জুন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম স্বাক্ষরিত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া জন্মনিবন্ধন সনদে উল্লেখিত তথ্যটি লিপিবদ্ধ রয়েছে।  সেই মোহাম্মদ হোছন এবার ভোল পাল্টিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আহমদ হোসেন পরিচয়ে নামের মিল রেখে লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ২৮৪ নম্বর ইয়াংছা মৌজার বাঁশখালীঝিড়ি এলাকার এনামুল হকের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেনের নামে ১৯৮০-৮১ সনে ৩৭৬৭ নং বন্দোবস্তি মামলামুলে প্রাপ্ত চার একর পাহাড়ি জমি জবরদখলে মেতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবশ্য জালিয়াতির এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেনের ছেলে নুর আলম বাদি হয়ে ২০১৭ সালে লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং ৪১/১৭) করেছেন। বর্তমানে মামলাটি লামা লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মামলার বাদি নুর আলম অভিযোগ তুলেছেন, আমাদের জমির পাশে অনুরূপভাবে বন্দোবস্তি মামলামুলে চার একর জমি পেয়েছেন চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোছনের বাবা এনামুল হক। পিতার ওই জমি রক্ষনাবেক্ষনের সুযোগে মোহাম্মদ হোছন কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজেকে আহমদ হোসেন সাজিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আমার বাবা আহমদ হোসেনের নামীয় বন্দোবস্তিমুলে প্রাপ্ত জমি দখলে নেমেছে।

ভুক্তভোগী নুর আলম দাবি করেছেন, অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোছনের বাবার নাম এনামুল হক। আমার বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন। আমার দাদার নাম এনামুল হক। মুলত আমার দাদা এনামুল হককে বাবা দেখিয়ে মোহাম্মদ হোছন নিজেকে (আমাদের বাবা) আহমদ হোসেন সাজিয়ে আমাদের জমি গুলো জবরদখলে চক্রান্ত শুরু করেছে। ১৯৮০-৮১ সালে উল্লেখিত জমি আমার বাবা আহমদ হোসেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নীতিমালার আলোকে বন্দোবস্তি পেলেও আমরা ঘটনাটি জানতে পারি ২০১৭ সালে আমাদের উল্লেখিত জমি যখন অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন প্রতারক মোহাম্মদ হোছন।

নুর আলমের অভিযোগ, বন্দোবস্তি পাওয়ার পর থেকে আমরা দুই ভাই পরিবার নিয়ে বাবার ওই জমিতে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলাম। ২০১৭ সালের দিকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমিটি কিনেছেন দাবি করে আমাদেরকে বসতঘর থেকে উচ্ছেদে নানাভাবে অপচেষ্ঠা শুরু করে।  তারপর ঘটনাটি সর্ম্পকে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারি মোহাম্মদ হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে আহমদ হোসেন সাজিয়ে আমাদের জমিটি অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা নিরুপায় হয়ে লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত মোহাম্মদ হোছনকে আসামি করে মামলা করি। ওই মামলায় আদালত মোহাম্মদ হোছনকে জেলহাজতেও প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আসামি মোহাম্মদ হোসেন জামিনে এসে আবেদন জানালে মামলাটি বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ন্যস্ত করেন লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।

২০১৯ সালের ১৮ জুন বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির সর্বশেষ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলার আদেশে আদালত বলেছেন, লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী দেয়া সিআর মামলা (নং ৪১/১৭) এর অভিযোগ গঠনের আদেশ বহাল রাখা হলো। সেইজন্য পরবর্তী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার নথি উল্লেখিত নিন্মাদালতে প্রেরণ করা হোক। বর্তমানে মামলাটি লামা উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাদি নুর আলম।

এদিকে ভুক্তভোগী জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেনের দুই ছেলে নুর আলম ও শাহালম তাদের বাবার নামীয় বন্দোবস্তিমুলে প্রাপ্ত ওই জমিটি রক্ষা করতে এবং তাদেরকে বসতি থেকে উচ্ছেদে অপচেষ্টা থামাতে জড়িত জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক এবং বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 2 =

আরও পড়ুন