চকরিয়ায় সালিশের নামে ইউপি সদস্যের বেদম প্রহারে গুরুতর আহত কৃষক

চকরিয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মো. রুহুল আমিন (৪৮) নামের এক কৃষকে সালিশের নামে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে বেদড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: জুনাইদের বিরুদ্ধে।

আহত কৃষক বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের বাক্কার পাড়া এলাকার মৃত আবদুস সালামের ছেলে।

শুক্রবার (২৬এপ্রিল) সকাল দশটার দিকে বিএমচর ইউনিয়নের মুবিন পাড়া স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমের ধানক্ষেতের পানি নিস্কাশনের বিষয় নিয়ে স্থানীয় পানির স্কীম চালক নুরুল ইসলাম ও নুরুল কাদের সহিত প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিনের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়ের জেরে তর্কাতর্কি জড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষক রহুল আমিন তার জমিতে পানি দেয়ার জন্য নলকূপের তালা খুলে ধানক্ষেতে পানি দিলে স্কীম চালক ওই সময় ক্ষুদ্ধ হয়ে নলকূপ বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্কীম চালক বিষয়টি স্থানীয় বিএমচর ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুনাইদকে অবহিত করেন।

শুক্রবার সকাল দশটার দিকে ইউপি সদস্য জুনাইদ সালিশের নামে মুবিন পাড়া স্টেশনে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে কোন কিছু বলার আগে বেদড়ক পিটিয়ে কৃষক রুহুল আমিনকে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত কৃষক রুহুল আমিন বলেন, পানি নিস্কাশনের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্কীম চালক ও আমার মধ্যে টাকা লেনদেন পরিশোধ নিয়ে তর্ক হয়েছিল। চলতি মৌসুমের সম্পূর্ণ টাকা তিনমাস পূর্বে পরিশোধও করেছি। স্থানীয় মেম্বার জুনাইদ অহেতুক ভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরে সালিশের নামে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে অশালীন খারাপ ব্যবহার করে লোহার পাত দিয়ে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এতেই আমার পুরো শরীর ও হাতের বাহুতে গুরতর জখম হয়। এনিয়ে আহত কৃষক মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে তার পরিবার সদস্যরা জানান।

বিএমচর ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: জুনাইদ কাছে জানতে চাইলে তিনি কৃষককে মারধর ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি ডেকে নিয়ে কাউকে মারধর করা হয়নি বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 2 =

আরও পড়ুন