চন্দ্রঘোনা কেপিএম স্কুলের ‘ফার্স্ট বয়’ এখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা


পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কেপিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষে তিনি ছিলেন সব শিক্ষকের প্রিয় ছাত্র, বন্ধুদের মধ্যমণি। সেই ‘ফার্স্ট বয়’ আজ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম একজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কেপিএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৯৯১ ব্যাচের কৃতী ছাত্র ডা. জাহেদ উর রহমান।
নাগরিক ঐক্যের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত মুখ ডা. জাহেদের এই সাফল্যে তার শৈশবের বিদ্যাপীঠ, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। কাপ্তাইবাসীর কাছে এই অর্জন যেন নিজেদেরই অর্জন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক নতুন উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণার তালিকায় ডা. জাহেদ উর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন তিনি। ডা. জাহেদ উর রহমান কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম)-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের ছেলে। তার পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তের বাগ গ্রামে হলেও তার বেড়ে ওঠা, শৈশব ও কৈশোর কেটেছে কাপ্তাইয়ের পাহাড় আর প্রকৃতির মাঝে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জাহেদের বাল্যবন্ধু ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাহেদ কেপিএম স্কুলের ৯১ ব্যাচের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলেন। তারা কেপিএম আবাসিক এলাকার শিশু বিদ্যালয়ের পাশে সুরমা ভবন ও পরে পদ্মা ভবনে বসবাস করতেন। ছোটবেলা থেকেই তার মেধার দ্যুতি আমাদের মুগ্ধ করত। আমাদের বন্ধুদের পক্ষ থেকে তার প্রতি রইল উষ্ণ অভিনন্দন।’
বন্ধুর এমন আকাশছোঁয়া সাফল্যে গর্বিত ৯১ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী শেখ মাহফুজুর রহমান মাইকেল। তিনি বলেন, ‘জাহেদ কেপিএম স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি কেবল একজন চিকিৎসকই নন, অত্যন্ত প্রখর ধীসম্পন্ন কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও সুপরিচিত। তার এই সাফল্যে পার্বত্য অঞ্চল তথা কাপ্তাইবাসী গর্বিত বোধ করছে।’
পাহাড়ের পাদদেশে বেড়ে ওঠা এক কিশোর মেধা ও যোগ্যতার বলে আজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। ডা. জাহেদ উর রহমানের এই উঠে আসা কাপ্তাইয়ের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উৎস : মাহফুজ আলম, সময় নিউজ অনলাইন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
















