চাঁদাবাজী বন্ধ করতে সেনা অপারেশন প্রক্রিয়া জোরদার করা দরকার- দীপঙ্কর তালুকদার এমপি

fec-image

রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এমপি বলেছেন, কয়েক বছর ধরে লক্ষ করেছি যে, পার্বত্য চট্রগ্রামে চাঁদাবাজি কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কমে নাই। এই কিছুটা যে কমেছে তার জন্য সেনাবাহিনীর তৎপরতাকে প্রশংসা করি। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। এই প্রক্রিয়া অপারেশন আরও জোরদার করা দরকার। কারণ উন্নয়নের প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এই অস্ত্রবাজি। গত ২৬ মে রাঙামাটিতে এপিবিএন আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে ২ ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শান্তিচুক্তির আলোকে এই সমস্ত সেনাক্যাম্পগুলোকে প্রত্যাহার করা হয়। আশা করা গিয়েছিলো যে, শান্তিচুক্তির সু-বাতাস বইতে শুরু করবে এবং এই সমস্ত সেনাবাহিনীর ক্যাম্প বসানো বা পুলিশ বসানোর প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু সেটি হয়নি। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক বছর পর দেখা গেল শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষে আবারও অস্ত্র ধরা হয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে একটু আগে আমাদের ২৪ পদাতিক ডিভিশন জিওসি সাহেব বললেন, ভয়ভীতি থেকে মুক্তি । এখন আবার প্রয়োজন পড়েছে ভয়ভীতি থেকে মুক্তি প্রদানের ।

বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বলছে, আমাদের এখানে সেনা চৌকি দরকার । সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই তিনটা ব্যাটালিয়ন স্থাপন এবং রাঙামাটিতে একটি এপিবিএন ব্যাটালিয়ন রেঞ্জ অফিস করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। অস্ত্র মানুষের জীবন কেড়ে নিতে পারে জীবন দিতে পারে না। অস্ত্র ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে না । যদি অস্ত্রের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত তাহলে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির প্রয়োজন পড়তো না।

আমরা বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে লক্ষ করেছি যে, পার্বত্য চট্রগ্রামে চাঁদাবাজি কিছুটা কমলেও পুরোপুরি কমে নাই। এই কিছুটা যে কমেছে তার জন্য সেনাবাহিনীর তৎপরতাকে প্রশংসা করি। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। এই প্রক্রিয়া অপারেশন আরও জোরদার করা দরকার। কারণ উন্নয়নের প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এই অস্ত্রবাজি। শুধুমাত্র তাই নয়, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নেরও প্রথম প্রতিবন্ধক হচ্ছে এই অস্ত্রবাজি। কাজেই এই জনগণকে ভয়ভীতি থেকে মুক্ত করার জন্য যেখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ছিল সেখানে এপিবিএন ব্যাটালিয়নের পুলিশ ফোর্স দিয়ে পুনরায় ক্যাম্প বসানো হবে । তবে হয়তোবা ধীরে ধীরে, একসঙ্গে বসানো সম্ভব হবে না।

আমরা আশা করছি জনগণের ভয়ভীতি আমরা এই প্রক্রিয়া মাধ্যমে মুক্ত করতে পারবো । একইসঙ্গে শুধু মাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। এই অস্ত্রবাজি সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে সামাজিক প্রতিরোধ দরকার, সামাজিক আন্দোলন দরকার। আজকে শুধু আমরা নয়, সাধারণ মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিদেরকেও এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই লক্ষ্যে তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে তারাও যেন এই সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই্ উদ্যোগ সফল হোক।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =

আরও পড়ুন