জাতিসংঘ অধিবেশনে অগাস্টিনা চাকমার মিথ্যাচার

fec-image

জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে অগাস্টিনা চাকমার মিথ্যাচার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি (পিসিজেএসএস) অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্য বানোয়াট। বিদেশে বসে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্ত ঝরানোর উস্কানি দিতে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিথ্যাচারে নেমেছেন অগাস্টিনা চাকমা।

অগাস্টিনা পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংস্কৃতি আর অধিকারের নামে মায়াকান্না করে একটি ভুল বার্তা ছড়িয়ে বিষোদগার করে দেশ তথা পাহাড় বিরোধী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন।

অগাস্টিনা চাকমা তৎকালীন শান্তিবাহিনীর প্রধান ও জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার নাতনি। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। জানা যায়, সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।

পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের নারীরা কঠোর পরিশ্রমী। শালীন জীবন যাপনের পাশাপাশি তারা তাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতির সাথে নিজেদের উপস্থাপন করে থাকেন। কিন্তু অগাস্টিনা কি সেসবের তোয়াক্কা করে?
জাতিসংঘের অধিবেশনে অগাস্টিনার ছবি কি তাই বলে যে, তিনি পাহাড়ের সহজ সরল নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেন? অনেকটা খোলামেলা, পশ্চিমা বেশে ছিলেন অগাস্টিনা চাকমা। তিনি সেদিন যে পোশাকে ছিলেন তা কি পাহাড়ের নারীরা ওভাবে উপস্থাপন করেন?

আচরণ, বাচনভঙ্গিতে অগাস্টিনার উপস্থাপনে প্রমাণিত যে, পাহাড়ের নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাজানো সিম্প্যাথি আদায়ের একটি কূটকৌশলের পথ বেচে নিয়েছেন।

জাতিসংঘে অগাস্টিনা চাকমা তার বক্তব্যে বলেছেন, জুম্ম নারী ও শিশুরা প্রতিদিন অনিশ্চয়তা নিয়ে জেগে ওঠে যে তারা পরবর্তী হামলা থেকে বেঁচে থাকতে পারবে কিনা? সত্যিই কি পাহাড়ের নারীরা অনিরাপদ?

রাষ্ট্র বা নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে পাহাড়ের নারীরা অনিরাপদ এমন জঘন্য মিথ্যাচার দেশদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে। মূলতঃ তার উল্টো চিত্রে অনিরাপদ সন্তু লারমার সংগঠনসহ অপরাপর পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর কারনে। পাহাড়ের সাথে প্রতারণার পাশাপাশি সাধারণ নিরীহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও তাদের নারীদের বোকা বানিয়ে ভিকটিম করেই যাচ্ছেন জেএসএসসহ সমমনা সংগঠনগুলো। অহরহ প্রমাণ আর তথ্য রয়েছে।

পার্বত্য চুক্তির আগে শান্তিবাহিনী সেজে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মানুষ মারতেন সন্তু লারমা। চুক্তি পরবর্তী অস্ত্র জমা দেয়ার নাম করে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়েছেন জেএসএস ও সমমনা সংগঠনগুলো। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম, খুন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রধান কারিগর তারা।

যদি রাষ্ট্রের কাছে যৌক্তিক এবং সহনশীল কোনো দাবি থাকে তাহলে আলোচনা করতে পারে, দাবি করতে পারেন। তাতে কারো কিছুই যায় আসেনা বরং সহমত থাকার কথা। এমনকি আন্দোলন সংগ্রামের সাথেও। কিন্তু রক্ত ঝরানোর মধ্য দিয়ে কি করতে চান তারা?? জেএসএস ও সমমনা সংগঠনগুলোর আধিপত্যের লড়াইয়ে কতো কতো পাহাড়ি মা, বোন, ভাইয়ের রক্ত ঝরেছে, ভিজেছে পাহাড় তা নিয়ে অগাস্টিনাদের মাথা ব্যথা নেই!
পড়ে থাকেন পাহাড়ের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে।

অগাস্টিনা চাকমা ভুলে গেছেন। তার নিজের দলের সন্ত্রাসীদের গুলিতে পাহাড়ি নারী যখন বিধবা হন, মা হারা হন এমনকি অবৈধ অস্ত্রের বুলেটে নিরীহ নারী নিহত হয়। তখন অগাস্টিনারা কোনো আওয়াজ দেশে বিদেশে তুলেন এমনটা শোনা যায় না।

অগাস্টিনার দাদু সন্তু লারমা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ দখল করে রেখেছেন। তবুও তারা বঞ্চনার অভিযোগ করেন!

অগাস্টিনারা আসলে পাহাড়ে শান্তি চায় না। রক্তপাত, রক্তচক্ষু ধরে রাখতে চায়। যার কারণে বিদেশে বসে বসে পাহাড় নিয়ে মিথ্যাচার ও বিষোদগার করে যাচ্ছেন। এমন মিথ্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, পার্বত্যবাসী সজাগ ও সচেতন থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা শান্তিপ্রিয় পার্বত্যবাসীর।

উল্লেখ্য, ২০ এপ্রিল জাতিসংঘের ২৫তম অধিবেশনে এশিয়া ইন্ডিজেনাস পিপলস প্যাক্টের (এআইপিপি) সাইড ইভেন্টে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একপক্ষীয় ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুরু হয়েছে। অধিবেশন চলবে ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত।

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ ইভেন্টে সন্তু লারমার নাতনি অগাস্টিনা চাকমাসহ পিসিজেএসএসের তিন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। বাকি দুজন হলেন—ছনছনা চাকমা ও প্রীতি বিন্দু চাকমা। অধিবেশনে অংশ নেওয়া এ চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন—পল্লব চাকমা, জেনিফার টাউলি কর্পুজ, বিনোতা ময় ধামাই, অর্ণব দেওয়ান ও শোহেল।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, খাগড়াছড়ি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন