জামায়াতের পলিসি সামিটে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা

fec-image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক উন্নয়নে নিজেদের নীতিগত রূপরেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামী। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারত-পাকিস্তানসহ ৩০ দেশের কূটনীতিক এবং দেশের বিশিষ্টজনদের সামনে উপস্থাপিত এই রূপরেখায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যক্ত করলেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিকল্পনা কি হবে- তা স্পষ্ট করলেন তিনি। জামায়াত আমির বললেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের ওপর। দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে এই অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত করা হবে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝেও। একই সাথে মানবিক মর্যাদাকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার কথাও বললেন তিনি।

সামিটে শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয় বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষিত তরুণেরা শিক্ষা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নারীরা এখনো নানা কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য একটি সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

এই বাস্তবতাগুলো সৎভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বাইরে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাঁদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছে ও বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে। তবে তাঁদের অবদান শুধু অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী—শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা—আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেওয়া ও সংস্কারে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

অর্থনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধীরে ধীরে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

জামায়াত ইসলাম তাদের পলিসিতে অন্তর্ভূক্ত করেছে নারীর অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কারের মেগা পরিকল্পনা। নির্বাচনী পলিসি সামিটে জামায়াত আমির বললেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: জাতীয় নির্বাচন, জামায়াত ইসলামী, পলিসি সামিট
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন