টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত


কক্সবাজারের টেকনাফে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। বিজয়ের প্রথম প্রহরে টেকনাফ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।
দিবস উপলক্ষে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
তোপধ্বনি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সকাল ৮.৩০ টায় উপজেলা কমপ্লেক্স আদর্শ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।
ওসিসির প্রোগ্রাম অফিসার নাশীদুল ইসলাম আল-ফারুকীর পরিচালনায় টেকনাফ আদর্শ বিদ্যাপীঠ মাঠে স্বাগত বক্তব্যে মহান বিজয় দিবসের গৌরবময় প্রভাতে সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ৫৪ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে, অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতির মুক্তির পথ। সেই চেতনাই আমাদের পথ দেখিয়েছে পরবর্তী প্রতিটি সংকটময় সময়ে।
তিনি আরও বলেন, বিজয়ের স্মরণে আমরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করি। সে সময় দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ন্যায়, গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, এ দেশের প্রকৃত শক্তি জনগণ এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। ২০২৪ সালের সেই আন্দোলন ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আধুনিক প্রকাশ, যেখানে অস্ত্র নয়, সচেতনতা; সহিংসতা নয়, নৈতিক শক্তি; এবং ভয় নয়, সাহস ছিল প্রধান হাতিয়ার।
তিনি আরও বলেন, টেকনাফ একটি সীমান্তবর্তী, বৈচিত্র্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে উন্নয়নের পাশাপাশি শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। বিজয় দিবসের এই দিনে আমরা অঙ্গীকার করি, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করব, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকব, তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে গড়ে তুলব এবং টেকনাফকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও মানবিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব। পরিশেষে ইউএনও আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী সাহসী মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তাঁদের আদর্শ আমাদের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস, টেকনাফ এজাহার বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়, কমপ্লেক্স আদর্শ কেজি স্কুল, বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এদিকে টেকনাফ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সদস্য গিয়াস উদ্দিন ভুলু, জিয়াবুল হক, আমান উল্লাহ কবির প্রমুখ।
এর আগে বিজয়ের প্রহরে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ মডেল থানা, পল্লী বিদ্যুৎ, বন বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, দমদমিয়া যুব কল্যাণ সমিতি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টেকনাফ খাদ্য গুদাম, আনসার ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে ছিল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির পরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজ এবং শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা প্রদর্শন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণী, সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।

















