তামাকের আগ্রাসনে পাহাড়ের ফসলি জমি

Tamak pic01

ফাতেমা জান্নাত মুমু:
রাঙামাটি জেলার ৪টি উপজেলা এখন তামাকের আগ্রাসনে। জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু ও বিলাছড়ি উপজেলার ফসলি জমি তামক চাষের কারণে মারাত্মক  হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের যেসব জমিতে আগে বিভিন্ন ফসল ধান, শাকসবজি, তরমুজ, আলু, গম ও ভুট্টার আবাদ হতো সেসব জমি এখন ক্রমান্বয়ে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। তামক চাষ দিন দিন গ্রাস করে নিচ্ছে এসব ফসলি জমি। পাহাড় জুড়ে এখন শুধু তামাক গাছে ভরপুর। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর, নদীর পাড় ও খালি ফসলি জমি এখন তামাকের দখলে। ক্ষতিকারক তামাক চাষ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় দশগুণ খাদ্য শস্য উৎপাদন কমেছে। তাই এখন পাহাড়ি এলাকায় দিন দিন খাদ্য সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সুত্র জানা যায়, চলতি বছরে রাঙামাটি জেলার চারটি উপজেলা মিলে ২৬৫ হেক্টর জমিতে হয়েছে বলে জানা যায়। বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর, মারিশ্যা, মাষ্টার পাড়া, মাদ্রাসা পাড়া, বটতলী, উলুছড়ি, লাল্যাঘোনা ছড়া, তুলাবান, শিলকাটা ছড়া, ঢেবাছড়ি, দুরছড়ি, খেদারমারা, পাবলাখালী, রুপকারী মগবান, করেঙ্গাতলী, বাঘাইহাট, শিজক, কচুছড়ি, মোরঘোনাছড়া, সারোয়াতলী মহিষপয্যা, খাগড়াছড়ি, আমতলী ও মাহিল্যা এলাকার অধিকাংশ কৃষক পুরোদমে তামাক চাষ হচ্ছে। তাছাড়া বরকল, লংগদু ও বিলাইছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় চাষীরা জানায়, প্রতি বছর বিভিন্ন কোম্পানিগুলো কৃষকদের বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করে তুলেছে। তামাক চাষের জন্য চাষীদের অর্থ বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করে দিচ্ছে এসব কোম্পানিগুলো। তাছাড়া তামাক কিনে নেওয়ার নিশ্চিয়তা দেওয়ার অধিক লাভের কারণে নিষিদ্ধ তামাকচাষের দিকে ঝুঁকছে হাজার হাজার সাধারণ কৃষক। তামাক চাষের কারণে মাটির উর্বরা শক্তি যেমন হ্রাস পাচ্ছে তেমনি বিপর্যয়ের মূখে পড়েছে পরিবেশও।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা সূর্য্য কুমার চাকমা জানায়, রাঙামাটি জেলার ৪টি উপজেলা বিশেষ করে বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু ও বিলাইছড়িতে আশঙ্কাজনকভাবে তামাক চাষ বাড়ছে। তবে কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার জন্য আমরা গত কয়েক বছর ধরে নানা উদ্যোগ নিয়েও কোনো কাজ হয়নি। এবছর চার উপজেলা মিলে মোট ২৬৫ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে। সামনে আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন