দীঘিনালায় পাহাড়ি নারীদের অন্যরকম পরিশ্রমী জীবন
দিদারুল আলম রাফি:
পার্বত্য অঞ্চলের খাগড়াছড়ি জেলাধীন দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ি শ্রমজীবি নারীরা কঠোর পরিশ্রমী জীবন যাপন করে। দিনভর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে পরিবারের কথা বিবেচনা করে নিজেদের জুমে ফলানো বিভিন্ন ফলদ ও কৃষি পণ্য বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
দীঘিনালা উপজেলার দূর্গম ও প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখে গেছে, পাহাড়ি পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কঠোর পরিশ্রম করে কাজ করছে। তারা দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি বনে ও বাগানে গিয়ে বিভিন্ন কৃষিজাত ও জ্বালানী সংগ্রহের কাজ করে থাকেন। কাজ থেকে ফেরার সময় জুমে উৎপাদিত ফল, শাক সবজি সংগ্রহ করে তা আবার বিক্রির জন্য পড়ন্ত বিকেলে স্থানীয় বাজারে নিয়ে আসেন।
বিশেষ করে যাদের বাগান করার মতো সামর্থ নেই তারা প্রতিকূল পরিবেশে বন থকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে পরিবারে খাবারের যোগান দেয়। এছাড়া পাহাড়ি নারীরা ছোট নদী-ঝিরি থেকে শামুক, ঝিনুক, কাকরা, বন থেকে কলার মোচা, মাশরুম, ঢেকির শাক, কচুর লতা, বাঁশকরুলসহ প্রভৃতি সংগ্রহ করে অর্থ উপার্জন করে। শামুক, ঝিনুক ও কাঁকড়া পাহাড়িদের কাছে অধিক জনপ্রিয় হওয়ায় এর চাহিদাও অনেক বেশি বলে জানান পাহাড়ি নারী বিক্রেতারা। কিন্তু যোগাযোগ অপ্রতুলতার কারণে পাহাড়ী নারীরা তাদের পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য পান না কখনোই।
এসব শ্রমজীবি নারীরা পাহাড় থেকে সংগৃহীত যাবতীয় পণ্য নিয়ে দীঘিনালার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন লারমা স্কয়ার মোড়ে ও স্থানীয় সাপ্তাহিক হাটে বসে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। এরা উঁচু পাহাড়ের নীচ থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে বয়ে নিয়ে যায় পাহাড়ের উপরের বসতিতে।
এব্যপারে উপজাতি বিষয়ক গবেষক রাজিব ত্রিপুরা জানান, আদিকাল থেকেই পাহাড়ি নারীরা কঠোর পরিশ্রম করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পাহাড়ি পুরুষরা আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকলেও পাহাড়ি নারীরা জুম চাষ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ও পারিবারিক নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। পরিবারের কথা বিবেচনা করেই পাহাড়ি নারীরা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বলে জানান তিনি।




















