ধানের শীষের সাথে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কারের পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই সনদকে সম্মান করতে হবে। সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব, ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন ১২ তারিখে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটা দেবে হ্যাঁ এবং না-এর, সেখানে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রংপুরের ঐতিহাসিক কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতের সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। বিএনপি এই নির্বাচনে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এলে সেই লুটের টাকা ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। আগে নিশিরাতে ভোট হয়েছে, সেই ভোটের রাজনীতি আর হতে দেব না। তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে আমরা সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব, যা কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটাবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রার এনজিও থেকে যারা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না, তাদের সেই ঋণ বিএনপি সরকার গঠন করলে পরিশোধ করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, রংপুর অঞ্চল ঢেলে সাজাতে হবে। এই অঞ্চলে যেমন খনিজসম্পদ আছে, তেমনি কৃষিতে সমৃদ্ধ। এখানে কৃষিজাত শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হবে। এজন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অঞ্চলে আইটি শিল্প স্থাপন করে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হবে। তা হলে রংপুরের আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ যে ১৪শ জন স্বপ্ন নিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের সেই ঋণ কিছুটা শোধ হবে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক দলের ইশারায় হয়নি। জনগণের দীর্ঘদিনের যে নিপীড়ন-নিষ্পেষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল তা থেকে স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণে তা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আপনারা ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। যাতে আপনার ভোট কেউ ছিনতাই করতে না পারে। তিনি পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কে বলেছে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে পড়া। রংপুর অঞ্চল সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এখানে পীরগঞ্জে কয়লা-লৌহখনি, দিনাজপুরে কয়লা, পাথরখনি আছে। রংপুর-দিনাজপুর কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা।
দলের রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এজেডএম ডা. জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের সংসদ-সদস্য প্রার্থীর মধ্যে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, রংপুর জেলার ৬টি আসনের মধ্যে প্রার্থী মোর্কারম হোসেন সুজন প্রমুখ।

















