নাইক্ষ্যংছড়িতে স্বপ্নের পাকা ঘর পেলেন ১০ পরিবার

fec-image

জমি থাকলেও ঘর তৈরীর অর্থ সম্ভব ছিলনা। জীবন কেটেছে জরাজীর্ণ ঘরে। আজ তাদের প্রত্যেকে হয়েছেন একটি সুন্দর পরিপাটি ঘরের মালিক। গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগসহনীয় বাসস্থান কর্মসূচির আওতায় তারা পেয়েছেন আধাপাকা দুই কক্ষের ঘর। যে ঘর তারা কখনো স্বপ্নেও ভাবেনি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় এই দূর্যোগ সহনীয় ঘরের জন্য ৫০ জন আবেদন করলেও বরাদ্দ পেয়েছেন ১০ জন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।

এসব ঘরে দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি শৌচাগার ও ঘরের সামনে একটি বারান্দা রয়েছে। যারা ঘর পেয়েছেন তাদের জীবন যেন আলোকিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তাদের মাঝে বিরাজ করছে বাধভাঙ্গা আনন্দ। তারা সরকারের পাশাপাশি পার্বত্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্যতা দেখাননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রধিকার প্রকল্প গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ খাতে উপজেলায় ৬৭টি ঘরের জন্য বরাদ্দ হয় ১কোটি ৭৩ লাখ ২১ হাজার ৫৭৭ টাকা। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। কার্যক্রম শুরুর সময় মোট ৫০জন আবেদন করলেও অধিকাংশ আবেদনকারীর জমির কাগজপত্র না থাকায় প্রকল্পের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এতে ফেরত গেছে ৫৭টি ঘর বরাদ্দের ১ কোটি ৪৭লক্ষ ৩৬হাজার ২৬৭ টাকা।

বান্দরবান জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে ৫টি আবেদনের মধ্যে ১জন ঘর পেয়েছেন, ঘুমধুম ইউনিয়নে ৯টি আবেদনের মধ্যে ৩ জন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নে ১৩টি আবেদনের মধ্যে ৫ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ১০ আবেদনকারীর মধ্যে ১জন ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে দোছড়ি ইউনিয়নে ১৩ আবেদনকারীর মধ্যে জমির মালিকানা ঠিক না থাকায় কেউ পায়নি বাসগৃহ।

বাইশারী ইউনিয়নের একমাত্র উপকারভোগী মরিয়ম বেগম এর ৪১ শতক জায়গায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ। এই ইউনিয়নে মোট ৫জন আবেদন করলেও চারজনের জমির মালিকানা দলিল সঠিক না থাকায় এবং দূর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আবেদন বাতিল করা হয়। মরিয়মের স্বামী নেই। বর্তমানে সরকারি বরাদ্দের গৃহ পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এ্যানিং মার্মা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসস্থান তৈরীর এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ঘর পেয়ে পরিবারগুলো খুব আনন্দিত। প্রতিটি পরিবার এখন নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল রানা বলেন, ৬৭টি ঘরের জন্য বরাদ্দ আসছিল। কিন্তু দূর্গম এলাকা এবং জমির সঠিক কাগজপত্র না পাওয়ায় ৫৭টি ঘরের টাকা ফেরত গেছে। বর্তমানে চলমান ১০টি ঘরের মধ্যে ৬টি ঘর উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বাকি ৪টি ঘরের কাজ চলমান আছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। পুরো কাজটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ তিনি তদারকি করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 7 =

আরও পড়ুন