পানছড়ির তেতুল চাহিদা মিটাচ্ছে সারা দেশের

fec-image

পানছড়ি উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেতুলের ফলন। চলতি মৌসুমে হয়েছে বাম্পার। যার ফলে জেলা ও উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে যাচ্ছে এখানকার তেতুল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় গাছে গাছে বাদুর ঝোলা ঝুলছে তেতুল আর তেতুল। গাছ থেকে সেসব নামিয়ে ফেলা হচ্ছে বাকল আর কেউ কেউ কলা পাতায় সাজিয়ে প্যাকেট করছে বাজারজাতের লক্ষ্যে।

বিশেষ করে রবিবারে পানছড়ি বাজার, মঙ্গলবারে ভাইবোনছড়া ও বৃহষ্পতিবারে লোগাং বাজারে গেলে দেখা মিলে কলাপাতায় মুড়িয়ে সাজানো অট্টালিকা তেতুলের স্তুপ।  পাইকারদের ব্যস্ততা বেশী দেখা যায় দিনগুলোতে।

তেতুলের বড় পাইকার লিটন কর্মকার জানান, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে সে তেতুল ক্রয় করে। ঢাকা কাওরানবাজার, সামবাজার, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সে টনকে টন তেতুল সরবরাহ করে থাকে। এ পর্যন্ত শুধু পানছড়িতেই প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার অধিক লেনদেন হয়েছে।

দীর্ঘ বছর ধরে তেতুল ব্যবসায় জড়িত মোস্তফা, জুয়েল, আবছার, নবী, কাশেম জানান, দিন দিন তেতুলের ফলন বাড়ছে। তাছাড়া বিগত বছরের তুলনায় পানছড়িতে বাম্পার ফলন হয়েছে। তাদের সবার লেনদেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অত্র উপজেলায় ফলন্ত ও অফলন্ত গাছের সংখ্যা প্রায় নয়শত। যা গত বছর ছিল প্রায় সাতশত। গাছ প্রতি ফলন প্রায় ১২০ কেজি:।

উপজেলা কৃষি অফিসার আলাউদ্দিন শেখ জানান, তেতুল চাষে কৃষদের উদ্বুদ্ব করা হচ্ছে। এরি মাঝে কয়েকজন মিষ্টি তেতুল বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সব ধরণের পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা দেবে কৃষি অফিস।

পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: অনুতোষ চাকমা জানান, তেতুলে রয়েছে পুষ্টি ও ভেষজ গুণ। পাকা তেতুল সবচেয়ে বেশী পুষ্টি সমৃদ্ধ। তেতুলে মোট খনিজ পদার্থ অন্য সব ফলের চেয়ে অনেক বেশী। তেতুল রক্তের কোলস্টেরল কমায়, মেদভুড়ি কমায়। স্কার্ভি, কোষ্ঠবদ্ধতা রোগ উপশমে এটা উপকারী।

এলাকার মুরুব্বীরা জানান, এক সময় তেতুল গাছের ছাল, ফুল, পাতা, বিচি সবই ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে এখন হয় কিনা জানেনা।

উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, তেতুল চারা রোপণ করার পর কোন ধরণের পরিচর্চা লাগে না। যে কোন পরিবেশে এটি বেড়ে উঠে যা কৃষকদের জন্য লাভজনক।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + sixteen =

আরও পড়ুন