পানির উৎস, পরিবেশ ও বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে


আমাদের সভ্যতার নাম বাংলা সভ্যতা। আমাদের দুনিয়ার নাম বাংলা দুনিয়া, যা হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ইতিহাস-পুর্ব বেঙ্গল বেসিন আর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর পলিতে গড়ে ওঠা বেঙ্গল ডেল্টা আমাদের জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে দিয়েছে। বঙ্গোপসাগর আমাদের বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে। বিশ্বের বৃহত্তম রিভারাইন ডেল্টায় আমরা বসবাস করি আর বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর রয়েছে আমাদের।
এ প্রস্তাবনাগুলো বুঝা দরকার আমাদের। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ বা ব্যারেজের ভূ-রাজনীতি, সাংস্কৃতিক রাজনীতি ও সামরিক প্রভাব না বুঝলে আমাদের ভবিষ্যৎ বড়ই দুঃখজনক হবে। বাংলাদেশের আগামীর লড়াই যতটা না সামরিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক, তাঁর চাইতে বেশি পানির উৎস, পরিবেশ-জলবায়ু ও বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক। বরং, পানির উৎস, পরিবেশ-জলবায়ু ও বঙ্গোপসাগরই আমাদের সামরিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
এজন্য আমরা বাংলা সভ্যতা ও বাংলা দুনিয়ার কথা বলি। বাংলা দুনিয়ার Civilizational Ethos না ধারণ করলে আগামীর সঙ্কটগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে না। ভাষা ও ধর্মকেন্দ্রিক সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবাদ দিয়ে এ অঞ্চলের যে কৌশলগত স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্ব, তা ধরে রাখা যাবে না। এজন্য চাই নতুন চিন্তা, নতুন রাজনৈতিকতা।
পুনশ্চঃ আগামীকাল (১৬ মে) ফারাক্কা দিবস আর সরকার এতক্ষণে পদ্মা (গঙ্গাই বটে) ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিদ্বান-পণ্ডিতেরা জানাবেন এ পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ভালো খারাপ। আমরা নিছক কাণ্ডজ্ঞানের কথা বললাম। বাকিটা রাষ্ট্রচালকদের মর্জি।
লেখক : চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। (উৎস : লেখকের ফেইসবুক পোস্ট)















