পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব কাজ বন্ধ ঘোষণা শিক্ষকদের

fec-image

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণার বিরোধিতা করে আসছিলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এবার তারা সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। ১ জুলাই থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন (বাবিশিসফে)।

রবিবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন তিন মাসেরও অধিক সময় ধরে বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বিবৃতি প্রদান, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, মানববন্ধন, প্রতীকী কর্মবিরতি, স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি মতো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময়ে সরকারের তরফ থেকে কোনও ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালিত হয় এবং আজ ৩০ জুন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে।

শিক্ষকরা বলছেন, প্রস্তাবিত ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাস্তবায়ন করা হলে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী যারা আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় আসতে আগ্রহী, তারাও এর ভুক্তভোগী হবেন। কাজের আমাদের এ আন্দোলন আগামী দিনের তরুণ সমাজের স্বার্থরক্ষার পক্ষে এবং উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে।

সরকার দাবি মেনে নিলে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাবি শিক্ষকদের পৃথক বিবৃতি

একই দাবিতে পৃথক বিবৃতিতে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। একইসঙ্গে ৯টি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

এ আন্দোলনকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন’ ও ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলন’ দাবি করে তারা বলেন, বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হবে।

বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা যে ৯টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন তার মধ্যে– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে; অনলাইন, সান্ধ্যকালীন ক্লাস, শুক্র ও শনিবারের প্রফেশনাল কোর্সের ক্লাস বন্ধ থাকবে; সব পরীক্ষা বর্জন করা হবে। মিডটার্ম, ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাসহ কোনও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

বিভাগীয় চেয়ারম্যান বিভাগীয় অফিস, সেমিনার, কম্পিউটার ল্যাব ও গবেষণাগার বন্ধ রাখবেন। অ্যাকাডেমিক কমিটি, সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি, প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে না; অনুষদের ডিনরা ডিন অফিস, ভর্তি পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কর্যক্রম বন্ধ রাখবেন। নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। কোনও সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না।

বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা তাদের অফিস, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন। সান্ধ্যকালীন, শুক্রবার ও শনিবারের ক্লাস বন্ধ থাকবে; বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সেন্টারের পরিচালকরা কোনও সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপের কর্মসূচি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন; বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা প্রাধ্যক্ষ অফিস বন্ধ রাখবেন; প্রধান গ্রন্থাগারিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখবেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও (জবিশিস) এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. শেখ মাশরিক হাসান বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম আমাদের দাবি না মানলে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাব। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। তাই আমরা কাল থেকে কোনও কাজ করব না, কোনও সাইন পর্যন্ত করব না। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস হবে না, শুক্রবারেও কোনও ক্লাস হবে না, প্রফেশনাল কোর্সেরও কোনও ক্লাস হবে না।

এদিকে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে জবি শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন এবং দুপুর ১২টা থেকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কর্মবিরতি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বজনীন পেনশন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন