পাহাড়ের মানুষের ব্যবহার আমাদের প্রতি বেশ ওয়েলকামিং ছিল : লে. জে. (অব.) মাহফুজুর রহমান


পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে আমি ১৫ বছর পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রামের সাথে আমার একটা আবেগময় অনুরাগ আছে। আমি যখন আমার প্রথম জীবনে ১৯/২০ বছর বয়সে পার্বত্য এলাকায় গিয়েছি, তখন শান্তিবাহিনীর দুর্দান্ত প্রতাপ। তার ভেতরেও সেখানকার মানুষের ব্যবহার আমাদের প্রতি বেশ ওয়েলকামিং ছিল।
৯ আগস্ট ২০২৫ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে ওসমানী সেন্টার ফর পিস এন্ড সিকিউরিটি স্ট্যাডিজের চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অব.) ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা তাদের বাড়িতে গেলে তারা পানি, ফল অফার করত। আন্তরিক একটা পরিবেশ ছিল। আমি লাস্ট চাকরি করেছি ২০১২ সাল পর্যন্ত। তখন আমি পাহাড়ের ওই সমস্ত গ্রামে গিয়ে লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদেরকে আর আগের মতো সেভাবে দেখে না। হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত এগিয়ে দিলেও হ্যান্ডশেক করতে চায় না। মুুখ ফিরিয়ে নেয়। এর কারণ হলো একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে সেখানে। বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ন্যারেটিভ তৈরি হওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পলিটিক্যাল স্পেসে ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষমতায় যাওয়া, ক্ষমতায় গিয়ে টিকে থাকা। গত ১৫ বছরে আমরা তাই দেখেছি। এটাই ঢাকার কাছে মোদ্দা বা আসল কথা। অবশ্যই পলিটিক্যাল স্পেসে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আনতে হবে।
পার্বত্য এলাকা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ডিভিশনের কাছে। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের কাছে। মনে রাখতে হবে ২৪ পদাতিক ডিভিশন সিকিউরিটি সিচুয়েশনকে মোকাবেলা করতে পারে। কিন্তু পলিটিক্যাল সিচুয়েশন মোকাবেলা করতে পারে না। জেএসএস, ইউপিডিএফ বা এ রকম সংগঠনগুলোর সাথে এরা টেক্কা দিতে পারবে না।
কারণ জেএসএসের কাছে যেমন পলিটিক্যাল উইং আছে, মিডিয়া উইং আছে, ইকনোমিক উইং আছে, কালচারাল উইং আছে। তেমনি আবার প্রপাগান্ডা উইংও আছে। একটা মিলিটারি ইউনিটে তো এগুলো থাকে না। আপনাদের মনে থাকতে পারে যে, ১৯৭৫ সালে যখন শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়, তখন দিল্লি এটাকে ধরে নিয়েছিলো এলিটি ইন দ্য পলিটি বা রাজনৈতিক অবাধ্যতা।
তিনি কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বিভাজনের ইন্ধনদাতাদের সনাক্ত করতে হবে। বিভাজন সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। পার্বত্যবাসীর সাথে সকল পর্যায়ে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। তাদের অভাব অভিযোগগুলো শুনতে হবে। ধৈর্যহারা হলে চলবে না। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটাকে ন্যাশনাল ইস্যু হিসেবে আলোচনায় আনতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেখতে হবে প্রাইম বিষয় হিসেবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বা শক্তিকে আমাদের জাতীয় জীবনে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। সেটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে জাতি পাবে ঋতুপর্ণা কিংবা রূপা চাকমাদের মতো প্রতিভা।

















