পুরুষের পাশাপাশি অর্থ আয়ে অবদান রাখছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠির নারীরা

fec-image

পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠির নারীরা খুব কর্মঠ। সারাদিন সংসারের বিভিন্ন কাজ সেরে অবসর সময়ে বসেন তাঁতে। তৈরী করেন, মেয়েদের বিভিন্ন পােষাক। আর এ পােষাক বিক্রি করে, আয় করা অর্থ দিয়ে সংসারে অবদান রাখছে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা।

উপজেলার বিভিন্ন দূর্গম গ্রামের নারীদের তৈরী নকশা করা পােষাক শােভা পাচ্ছে বিভিন্ন দােকানে। ত্রিপুরা ভাষায় এ পােষাকের নাম রিসা এবং রিনাই আর চাকমা ভাষায় এর নাম পাছরা এবং থামি। এটি ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পােষাক।

সরেজমিনে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজলার এ কামাকুছড়া গ্রাম ঘুর দেখা যায় অনেকের বাড়িতে বাণিজ্যিক ভাবে তৈরী করছে ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠির নারীদের এ পােষাক। কেহ তাত বুনছে। কেহবা তৈরী পােষাকে নকশা করছে। পাশাপাশি বাড়ির ছােট ছেলেমেয়েরা সহযােগীতা করছে মা’কে। এক সেট রিসা ও রিনা তৈরী করতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। নকশা-সহ তৈরী করা এক সেট পােষাকের দাম সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। তাতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লাভ হয়।

এ ব্যাপার কামাকুছড়া গ্রামের ছায়ানিকা ত্রিপুরা(৩৮) তাঁতে কাজ করার ফাঁকে জানান, “প্রথম আমি আমার মায়ের নিকট এ কাজ শিখেছি। এখন আমি বাণিজ্যিক ভাবে কাজ করছি। আমার মতাে এ গ্রামের অধিকাংশ নারীরাই অবসরে এ কাজ করে থাকেন। অনেকে আবার পেশা হিসেবেও বেছে নিয়েছেন এ পােষাক বুনা। তিনি আরাে জানান, আমার মেয়ে মেকি(১৯), সেও এ পােষাকের কাজ করতে পারে। তাকে বিভিন্ন নকশার কাজ গুলাে বেশি শিখিয়েছি । গ্রামের প্রতিটি গৃহবধুই সাংসারিক কাজকর্ম সেরে তাত বুনার কাজ করছে।

এ গ্রামের অপর গৃহবধু বেলিকা ত্রিপারা (২৯) জানান, তাঁত পােষাক বুনে প্রতি মাসে তিন-চার হাজার টাকা আয় হয়। তিনি আরাে জানান, তার তৈরী পােষাকগুলাে জেলার তৈরী পােষাকের দােকানে বিক্রি করা হয়। এ আয়ে সংসারের কাজে লাগছে।

দীঘিনালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অনুকা খীসা জানান, পাহাড়ের অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠির নারীরাই অবসর সময় তাঁত বুনার কাজ করে সময় কাটান, তবে অনেকে এ কাজ করে নিয়েছে পেশা হিসেবে। তবে অবসর সময়ে এ পােষাক তৈরীর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠির নারীরা নিজেদের সংসারে অবদান রাখছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 10 =

আরও পড়ুন