পেকুয়ার দা-বাহিনীর দু’গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলি, মহিলাসহ আহত-৩

 

পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়ার ক্রাইমজোন নামে খ্যাত টইটং ইউনিয়নের জুমপাড়াস্থ নুনাছড়ি এলাকায় দা-বাহিনীর দুই গ্রুপের মধ্যে গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চোরাই গাছ বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা ও মতবিরোধের জের ধরে আলোচিত দা-বাহিনীর দু’গ্রুপে গুলিবিনিময় করে। এ ঘটনায় মহিলাসহ ৩জন আহত হয়েছে।

আহতেরা হলেন, মো. সেলিমের স্ত্রী নুরুনাহার,  মৃত নুরুল কাদের’র পুত্র দা-বাহিনীর বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবদুল হামিদ (৩৩), মৃত বদর আলমের পুত্র মো. জাবের।

আহতদেরকে প্রথমে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে এবং অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তারা বর্তমানে চমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলাগুলির ঘটনাটি ঘটে।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন।

বটতলি ও নুনাছড়ি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, টইটংয়ের পাহাড়ি এলাকায় প্রতিদিন গুলাগুলি হয়। প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার(১৫ মার্চ) রাতে দা-বাহিনীর দু’পক্ষে ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়। আবদুল হামিদ ও পুন্যা নামের একজনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব চলছে টইটং ইউনিয়নে। রাতে তাদের মধ্যে টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গুলাগুলিতে আহত হয়।

ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবদু জলিল বলেন, পাহাড়ের নুনাছড়ি এলাকায় রাতে আবদুল হামিদ গং ও  পুন্যা ডাকাত গং এর মধ্য ব্যাপক বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। শুনেছি চুরিকৃত গাছ বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা করতে গিয়ে বনিবনা না হওয়ায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কয়েকজন আহত হয়। আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে উকিল আহমদ হত্যা মামলাসহ ৮/১০টি মামলা চলমান রয়েছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে একজন প্রভাবশালী লোক নিরহ লোকদের আসামি করার চেষ্টা করছে।

ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, রাতে নুনাছড়ি এলাকায় দু’পক্ষে ব্যাপক গুলাগলি হয়েছে। আবদুল হামিদসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় রাতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী  গুলাগুলিতে  মহিলাসহ ৩জন আহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন  করে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন। কারা এঘটনা করেছে স্থানীয়রা ওসিকে অবগত করেছেন। আপনারা  ওসির কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

ওসি (তদন্ত) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, ঘটনা পরবর্তি আমি সরেজমিন ঘটনাস্থল গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেছি। যতটুকু জানতে পেরেছি যারা আহত হয়েছে এবং যারা গুলি করেছে তারা সবাই দা-বাহিনীর সদস্য। বালি, গাছ বিক্রিসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তাদের মধ্য বিরোধের কারণে গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আহতও হয়েছেন কয়েকজন। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 2 =

আরও পড়ুন