পেকুয়ায় সরকারি জায়গার দখল ছাড়তে নির্দেশ : দখল ছাড়তে চায়না হকার্স ব্যবসায়ীরা, পুনর্বাসনের দাবি

fec-image

পেকুয়ায় সরকারি জায়গায় অবৈধ দখল করে আছে হকার্স ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি ওই জায়গায় বহুতল বিশিষ্ট একটি ভবন নিমার্ণের জন্য সার্ভে করে বাজেট বরাদ্দ হয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ হয়। এরপর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করতে চাইলে ওই জায়গায় হকার্স ব্যবসায়ীরা দখল করে রাখে। ফলে বিষয়টি প্রশাসনের কাছে গড়ায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীদেরকে দখল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। পরে ব্যবসায়ী নেতারা ইউ এনওএর সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করে। ইউএনও’র কাছে ব্যবসায়ী নেতারা পুনবার্সনের দাবি জানায়।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ফখরুউদ্দিন ও মঈনউদ্দীন সরকারে আমলে পেকুয়া আলহাজ কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের ওই জায়গাটা খাস জায়গা বা ১ নং খতিয়ানভুক্ত করে। সরকার উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে ওই জায়গায় আগে থেকে যেসব স্থাপনা ছিল তা গুড়িয়ে দিয়ে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ওই সরকারি জায়গা হকাররা সুকৌশলে দখল করে দখলদারিত্ব করে নেয়। কিন্তু বর্তমানে ওই জায়গায় দখলমুক্ত করতে চাইলে পুনবার্সনের দাবি দিয়ে দখল না ছাড়তে মরিয়া হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

প্রশাসন দাবি করে, সরকারি জায়গায় একবার উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ক্ষতিপুরণও দিয়েছে সরকার। এরপরও উচ্ছেদকৃত জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে দীর্ঘদিন ব্যবসা করলেও কোন যুক্তিতে পুনবার্সন ও ক্ষতিপুরণ দাবি করে হকার ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২১ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার প্রধাণ বানিজ্যিক কেন্দ্র আলহাজ্ব কবির আহমদ চেীধুরী বাজারে পুনবার্সনের দাবিতে মানববন্ধন করে।

এতে পেকুয়া বাজার হকার্স ব্যবসায়ীরা তাঁদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বসানের দাবি তুলে ধরেন। এসময় বক্তব্য রাখেন, পেকুয়া বাজার হকার্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক মো.শফি ও ইজারাদারের পক্ষে সাজ্জাদুল ইসলাম।

মানববন্ধনে হকার্স ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, চারশতের অধিক ব্যবসায়ী রয়েছে এখানে। কোন ধরণের পুর্ব ঘোষণা ছাড়াই আমদের এই হকার্স থেকে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় আমরা অসহায়। আমাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হলে রাস্তায় নামা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নাই।

অথচ আমাদের কোন ধরণের পুণর্বাসনের  দেওয়ার কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমদেরকে পুনর্বাসনের পাশাপাশি নতুন ভবনে স্থান করে দিতে হবে এমনটাই দাবী তুলে ধরেন মানববন্ধনে হকার্স  ব্যবসায়ীরা।

হকার্স ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো.শফি বলেন, এই হকার্স ব্যবসা ছাড়া আমাদের আর কোন আয়ের উৎস নাই। আমদেরকে উচ্ছেদ করে দিলে রাস্তায় নামতে হবে। এবিষয়ে বিভিন্ন উর্ধ্বতন মহলে লিখিত আবেদন করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কুম্ভকর্নের ঘুম ভাঙ্গাতে পারেনি। অবিলম্বে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে হকার্স ব্যবসায়ীদের। চকরিয়া-পেকুয়ার সংসদ সদস্য জাফর আলম এমপির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমদের এই একটাই দাবি আমদের পুনর্বাসন চাই।

হকার্স ব্যবসায়ী সমিতিরি সভাপাতি আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, আমরা খুব অসহায় ব্যবসায়ী। কোন রকম দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করি। এই মুহূর্তে আমদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হলে রাস্তায় নেমে ভিক্ষা করেত হবে। পরবর্তী সময়ে আমদের নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের নিকট আশুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতাছেম বিল্লাহ জানান, বাজারে একটি নতুন ভবন হচ্ছে। তাছাড়া ওই ব্যবসায়ীদেরকে পুনর্বাসনের কোন সুযোগ নেই, চেষ্টা করবো যদি পারি। উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবো যারা দখল ছাড়বে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দখল, পেকুয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 2 =

আরও পড়ুন