বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আরাকান আর্মির ‘দ্বৈত অবস্থান’ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নতুন শঙ্কা

fec-image

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আরাকান আর্মির প্রধান টোয়ান ম্রাত নাইং। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে বিশ্লেষক ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক ভাষায় ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরাকান আর্মির রাজনৈতিক অবস্থানের অসঙ্গতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ইস্যুগুলোতে স্পষ্ট অবস্থানের অভাবের কারণে এখনো গভীর “আস্থার সংকট” রয়ে গেছে।

২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিজেদের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। তবে সমালোচকদের মতে, বিশেষ করে রোহিঙ্গাসহ জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সংগঠনটির রাজনৈতিক রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য “অনুকূল পরিবেশ” তৈরির কথা বললেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেয়নি আরাকান আর্মি

রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রোহিঙ্গাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে, নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে এবং নাগরিকত্বের স্বীকৃতিও অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কারণে কার্যকর প্রত্যাবাসন কাঠামো গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রের বরাতে অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় আরাকান আর্মি সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালনা করছে, যেখানে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক কর আদায় এবং জোরপূর্বক আর্থিক দাবি করা হচ্ছে।

এসব অভিযোগ সংগঠনটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততায় তারা কতটা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি

মাদক পাচার ও সশস্ত্র নেটওয়ার্ক দমনের অঙ্গীকার করলেও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলের অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই জটিল অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

স্পষ্ট নীতিগত অবস্থানের আহ্বান

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক দায়ভার বহন করছে বাংলাদেশ। এ বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার আগে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

তাদের মতে, সংখ্যালঘুদের অধিকার, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতায় যাওয়া উচিত হবে না।

রাখাইনের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হলেও রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।

উৎসঃ আরপিএন ফেসবুক পোস্ট ( ৬ মে ২০২৬)

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আরাকান আর্মি, মিয়ানমার, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন