বান্দরবানের রুমায় কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

fec-image

বান্দরবানের রুমায় কাবিটা-কাবিখা’র দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি টাকা উত্তোলন করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাইন্দু ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মার বিরুদ্ধে।

প্রকল্পে এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ সংস্কারের কথা থাকলেও সেটি না করে ছাংদালা পাড়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিতে ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়েছে যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পাড়াবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ আসনে মাননীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে কাবিটা-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ‘এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ নেওয়া হয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা প্রকল্প গ্রহণের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পের বিপরীতে প্রকৃত বরাদ্দের কথা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা পাড়াবাসীকে কখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ছাংদালা পাড়া বাসিন্দা আছোমং মার্মা ও উচথোয়াই মার্মা। এ কাজে দুই লাখ ৫০ হাজার বরাদ্দের কথা বিভিন্নভাবে জানার পর বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

আছোমং মার্মার ভাষ্য মতে, খেলার মাঠ করার কথা বলে এক সপ্তাহ আগে তাঁর হাতে ১২ হাজার টাকা তুলে দেন স্থানীয় মেম্বার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মা।

আছোমং মার্মা বলেন, টাকা নেওয়ার সময় জানতে চাইলে মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা তাঁকে বলেছেন, যেখানে সুবিধা, সেখানে খেলার মাঠের জন্য কাজ করতে এবং কাজের ছবি মেম্বারকে দিতে।

তাঁর কথা অনুসারে বৌদ্ধ বিহারের জমিতে খালি জায়গায় দৈনিক ৪০০ টাকায় নারী-পুরুষ ১২ জন শ্রমিক নিয়ে একদিন ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে এলিম-ছাংদালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৌদ্ধ বিহারের জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের কোনো সম্পর্ক নেই। দূরত্বও অনেক। মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা প্রকল্পের নাম ও বরাদ্দ গোপন রেখে তার সুবিধার জন্য বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা।

৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা বলেন, পাড়াবাসীর পরামর্শক্রমে প্রথমে বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করা হয়েছিল। এখন যেহেতু পাড়ার মধ্যে একটি অংশ আপত্তি তুলেছেন, তাই প্রকল্পের নাম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ সংস্কারের কাজ করা হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কাউছার বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের বিপরীতে চূড়ান্ত বিল এখনো দেওয়া হয়নি। তবে মেম্বারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ পত্র তিনি পেয়েছেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান, রুমা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন